মাসে দেড় কোটি টাকা রাজস্ব, তবুও অচল ২০ সিসিটিভি ক্যামেরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে নিরাপত্তাহীনতায় যাত্রীরা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিদিন যাতায়াত করেন হাজারো যাত্রী। অথচ যাত্রী নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা স্টেশনের সিসিটিভি ক্যামেরাগুলোই এখন অচল। স্টেশনে থাকা ১৪টি এবং রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির আরও ৬টি—মোট ২০টি ক্যামেরার কোনোটিই বর্তমানে কার্যকর নেই বলে জানা গেছে।
ফলে স্টেশনে চুরি, ছিনতাই কিংবা মাদকসহ কোনো অপরাধ ঘটলে ঘটনাটি শনাক্ত ও অপরাধীদের চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করেন প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার যাত্রী।
সড়কপথের যানজট ও দীর্ঘ সময়ের ভোগান্তি এড়াতে অনেকেই নিরাপদ ও দ্রুত যাতায়াতের জন্য বেছে নেন রেলপথ।
কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই স্টেশনটির নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন।
স্টেশনে স্থাপিত ১৪টি সিসিটিভি ক্যামেরা এবং রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির নিজস্ব ৬টি ক্যামেরা—মোট ২০টি ক্যামেরাই বর্তমানে অচল বলে অভিযোগ।
ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণ না হওয়ায় অপরাধ সংঘটিত হলে ঘটনাস্থলের গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যও পুলিশের হাতে থাকছে না।
যাত্রীদের অভিযোগ, সিসিটিভি অচল থাকায় স্টেশন এলাকায় পকেটমার, ছিনতাই, টিকিট কালোবাজারি ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধ ঠেকানো আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিশেষ করে রাতে স্টেশনের বিভিন্ন অংশে নিরাপত্তাহীনতা আরও বেড়ে যায় বলে অভিযোগ তাদের।
রেলওয়ে পুলিশ বলছে, স্টেশন এলাকায় চুরি-ছিনতাইয়ের অভিযোগ নিয়মিতই আসছে।
সম্প্রতি এক প্রবাসীর মানিব্যাগ ছিনতাইয়ের ঘটনাতেও সিসিটিভি অচল থাকায় ফুটেজ দেখে ছিনতাইকারী শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
একই সঙ্গে স্টেশন এলাকার একটি দীর্ঘদিনের ভাঙা সীমানাপ্রাচীর নিয়েও রয়েছে অভিযোগ। পুলিশ বলছে, ওই অংশ দিয়ে রাতে মাদকসেবীদের আনাগোনা ও আড্ডা বসে।
রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক শাহ আলম বলেন, সিসিটিভি সচল থাকলে অপরাধীদের শনাক্ত করা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের সক্ষমতা আরও বাড়ত।
তিনি জানান, স্টেশন এলাকার অবকাঠামোগত কিছু সমস্যা সমাধান করা গেলে মাদক, চুরি ও ছিনতাই দমনে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
অন্যদিকে, স্টেশন মাস্টার মো. শাকির জাহান জানিয়েছেন, ক্যামেরাগুলোর হার্ডডিস্কে সমস্যা হওয়ায় গত প্রায় ১৫ দিন ধরে স্টেশন এলাকার কোনো ফুটেজ সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, বর্তমানে স্টেশনে ১৪টি ক্যামেরা রয়েছে। আরও ১৪টি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। খুব শিগগিরই সমস্যার সমাধান হবে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয়দের দাবি, প্রতিমাসে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয়ের এই গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রী নিরাপত্তার বিষয়টি কোনোভাবেই অবহেলা করার সুযোগ নেই।
তাদের অভিযোগ, সিসিটিভি অচল থাকার সুযোগে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে।
স্টেশন এলাকায় কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ও রয়েছে একাধিক অভিযোগ, অভিযোগ রয়েছে রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির কিছু পুলিশ সদস্যের যোগসাজশে মাদক পাচার কিংবা চুরি-ছিনতাইকারীর মত অনেক ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে। চুরি,ছিনতাই ও মাদক কারবারির কাছ থেকে মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগ ও উঠেছে।
যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত সব সিসিটিভি ক্যামেরা সচল করা, ভাঙা সীমানাপ্রাচীর সংস্কার এবং স্টেশন এলাকায় মাদক ও চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন যাত্রী ও স্থানীয়রা।
মাসে প্রায় দেড় কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে স্টেশনে যদি নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান প্রযুক্তি অচল থাকে—তাহলে প্রশ্ন উঠতেই পারে, রাজস্ব আয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যাত্রী নিরাপত্তার ব্যবস্থা কতটা নিশ্চিত করা হচ্ছে?

