জুলাই-বিপ্লব হতে পারত`একটি রাজনৈতিক আলোকবর্তীকা’!

মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ (সাটুরিয়া) প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৭:২৩ অপরাহ্ণ
জুলাই-বিপ্লব হতে পারত`একটি রাজনৈতিক আলোকবর্তীকা’!
১১৪

বাংলাদেশের জন্য একটি বিপ্লবী সরকার প্রয়োজন। কেবল মাত্র, জ্ঞান-দিপ্ত-বিপ্লবী সরকারই পারে এই অদৃষ্টবিশ্বাসী পরায়নপর বাঙ্গালী জাতিকে পরিশুদ্ধ করতে। ডানপন্থী, বামপন্থী কিম্বা মধ্যপন্থী রাজনৈতিক মতাদর্শ বাঙ্গলী জাতিকে কোন দিন আকৃষ্ট করতে পারে নাই এবং ভাবিষ্যতেও করবে না একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়। যুগে যুগে বিপ্লবীক ধারা-সূচনায় প্রাচীন বাংলার শশাংক, চন্দ্রগুপ্ত মোর্য কিম্বা বখতিয়ার খিলজীর মত বিপ্লবীরাই পারে-একটি নব-চেতনার নতুন বাংলাদেশ গড়তে এ কথা প্রমাণিত সত্য।

আমরা স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের রাজনীতি ও শাসনকাল দেখেছি। এরা ডান, বাম কিম্বা মধ্যপন্থীর স্লোগান দিয়ে কি ভাবে বাংলার সাধারন জনতার সম্পদ লুটে নিয়েছে। খেটে খাওয়া মানুষের ভাগ্যে থাবা মেরে কি ভাবে রাতারাতিই বিত্তশালী হয়েছে। রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র চালু করে আজীবন ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করছে। নিজেদের আধিপত্য টিকিয়ে রাখার জন্য পাইক-পিয়াদাদের দ্বারা-সন্ত্রাসী ও পেশীশক্তির রাজনীতি চালু করেছে। জন-শান্তির ছবক দিয়ে অঘোষিত রাবনের রাজ্য কায়েম করে জাতীয় সতীত্ব হরণে প্রবৃত্ত রয়েছে। স্বদেশী সম্পদ বিদেশে পাচার করে প্রমোদ অট্রলিকা গড়ে তুলছে। প্রশাসনিক কাঠামোতে দলীয় লোক নিয়োগ করে চাটুকার ও তুষামোদি শ্রেণী সৃষ্টি করেছে। সারাদেশের মোট সম্পদের ৭৫ ভাগ দখলে নিয়ে মানবতাবাদের স্লোগান দিচ্ছে।

বাংলাদেশের বিগত ৫৪ বছরে রাজনীতির ইতিহাস- সাধারন মানুষের সম্পদ লুটের ইতিহাস। সচেতন বিবেকের কান্নাঁর ইতিহাস। রাজনৈতিক দুর্বৃত্তদের দখলবাজীর ইতিহাস।
২৪শের জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে একটি কালো অধ্যায় পরিসমাপ্তি ঘটেছে। এই বিপ্লবে, শত শহীদের মাঝে সাত বছরের শিশুর বুকে তাজা রক্ত, পরাধীনতার শৃঙ্খলা মুক্তির সাহসী আহ্ববান- বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিয়েছে। ২৪শের জুলাই বিপ্লব ছিল, একটি সচেতন বিবেকের আত্ম-চিৎকার। নির্যাতিত মানুষের মুক্তির স্লোগান। বিপন্ন মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার-একটি নতুন সমাজ ও রাষ্ট্র গঠণের মুল প্রেরণা।

কিন্তু আমরা বরাবরই একটি মানবিক-কল্যাণমূখী রাষ্ট্র গঠণে ব্যর্থ হচ্ছি- শুধুমাত্র তথাকথিত গণতান্ত্রিক স্লোগানের সীমাবদ্ধতায়। সভ্যতা, সংস্কৃতি বৈশ্বিক মানসম্মত এবং একটি উদার-প্রসারন মূলক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হলে চিন্তাশীল ও সুদুর প্রসারি নেতৃত্বের প্রয়োজন যা বাংলাদেশের বর্তমান প্রচলিত আইন বা শাসন পদ্ধতির দ্বারা প্রায় অসম্ভব। কারণ গণতান্ত্রিক এই ধারায়-ছাগল দিয়ে হাল-চাষ নিতান্তই অপরিপক্কতা ও অদূরদর্শিতার সামিল।

পরিপ্রেক্ষিত, তথাকথিত, শোষকদের হাত হতে বাচঁতে হলে একটি সচেতন শিক্ষিত সমাজের নেতৃত্বে জীবনমুখী-কল্যাণকর রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েম করতে হবে। অসমতল নির্বাচনের পথরোদ্ধ করে, জনসমর্থনের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। প্রশাসনের সর্বোচ্চ থেকে আরম্ভ করে সর্বত্রই চাটুকার, দুর্নীতিবাজ ও লুটেরাদেরকে বিতারিত করতে হবে-যা কেবলমাত্র একটি বিপ্লবী সরকারের দ্বারাই সম্ভব।

এ কথা কোনমতেই, অস্বীকার করার উপায় নাই যে, আজ বাংলাদেশের প্রত্যেকটি পাড়া, মহল্লা কিম্বা শহরের অলি-গলি, দুর্নীতিবাজদের অভয় অরণ্যে পরিনত হয়েছে। অপরিশুদ্ধ স্লোগানে এরা গোটা বাংলাদেশকে গিলে খেতে বসেছে। ডান-বামে ভাগ হয়ে পালাক্রমে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটে নিচ্ছে। তাদের এই রাহু-গ্রাস রাজনীতি পালাক্রমে জন্ম দিচ্ছে যুগে-যুগের দানবীয় স্বৈরাচারের। তাই একটি বিপ্লবী সরকর গঠন ও তার প্রশাসনিক বিস্তৃতিই এই অরাজকতা থেকে দেশ ও জাতিকে মুক্তি দিতে পারে।