অসহায় বৃদ্ধার জীবনসংগ্রামের গল্প

দারিদ্র্য আর অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে আছেন আফি বেগম

মোঃ শেখ সাদি, কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ৫:১৭ অপরাহ্ণ
দারিদ্র্য আর অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে আছেন আফি বেগম
৮৪

চরম দারিদ্র্য, বার্ধক্য এবং নানা শারীরিক অসুস্থতার সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করেও বেঁচে থাকার আশা ছাড়েননি আফি বেগম। জীবনের প্রতিটি দিন যেন তার কাছে নতুন এক সংগ্রামের নাম। আজ খাবার জুটলেও আগামীকাল কীভাবে চলবে, সে অনিশ্চয়তা তাকে তাড়িয়ে বেড়ায় প্রতিনিয়ত। চিকিৎসার অভাব, অসহায়ত্ব আর স্বজনহীনতার যন্ত্রণা তার জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে।

 

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাহাগিলী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের তেলিপাড়া গ্রামের মৃত সালাম ইসলামের স্ত্রী আফি বেগমের বয়স প্রায় ৬৫ বছর। প্রায় তিন বছর আগে স্বামীকে হারান তিনি। এরও আগে, প্রায় ১০ বছর আগে মৃত্যুবরণ করেন তার একমাত্র ছেলে। অনেক কষ্ট করে ছেলেকে মানুষ করলেও সেই সন্তানকে হারিয়ে জীবনে নেমে আসে গভীর শোক ও অনিশ্চয়তা। এরপর একমাত্র নাতনি আতিকা আক্তারকে নিয়েই চলছিল তার সংসার।

 

কিছুদিন আগে গ্রামের মানুষের সহযোগিতায় নাতনির বিয়ে দিতে সক্ষম হলেও অর্থাভাবে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় সম্পন্ন করতে পারেননি তিনি। আপন বলতে পাশে দাঁড়ানোর মতো তেমন কেউ নেই। একসময় মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু বর্তমানে শারীরিক নানা জটিলতায় আগের মতো চলাফেরা করাও তার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

সরেজমিনে জানা যায়, স্বামীর মৃত্যুর পর কয়েক শতক জমি ছাড়া আফি বেগমের আর কোনো সহায়-সম্বল অবশিষ্ট নেই। বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়লেও জীবিকার প্রয়োজনেই অন্যের সহযোগিতার দিকে তাকিয়ে থাকতে হয় তাকে। শরীরে আগের মতো শক্তি না থাকায় কোনো ধরনের শ্রমনির্ভর কাজও করতে পারেন না। বার্ধক্যজনিত নানা অসুস্থতার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপন তার জন্য হয়ে উঠেছে অত্যন্ত কষ্টকর।

 

স্থানীয়দের মতে, আফি বেগমের মতো অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক ব্যক্তিদের সহযোগিতা পেলে হয়তো জীবনের শেষ সময়ে কিছুটা স্বস্তি ফিরে পেতে পারেন এই জীবনসংগ্রামী নারী।

 

দারিদ্র্যের নির্মম বাস্তবতা তাকে বারবার বিপর্যস্ত করলেও হার মানেননি আফি বেগম। সীমাহীন কষ্টের মধ্যেও বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখেন তিনি। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তার একটাই প্রত্যাশা—মাথা গোঁজার নিরাপদ আশ্রয়, ন্যূনতম চিকিৎসা এবং দুবেলা খাবারের নিশ্চয়তা।