সন্তানের ওপর মায়ের অধিকার

মায়ের প্রতি সম্মান জানানো সন্তানের জন্য নবীজির সুসংবাদ

ধর্ম ডেস্ক : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ৭:২৯ অপরাহ্ণ
মায়ের প্রতি সম্মান জানানো সন্তানের জন্য নবীজির সুসংবাদ
৬৮

ইসলাম মা-বাবার প্রতি সদাচরণ ও সম্মান প্রদর্শনকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। বিশেষ করে মায়ের মর্যাদাকে অনন্য উচ্চতায় আসীন করা হয়েছে। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে মায়ের অধিকার, ত্যাগ এবং সন্তানের ওপর তার মর্যাদা সম্পর্কে বারবার গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

 

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি মানুষকে তার মা-বাবার সঙ্গে সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছি। তার মা কষ্টের পর কষ্ট ভোগ করে তাকে গর্ভধারণ করে। তার দুধ ছাড়ানো হয় দুই বছরে। সুতরাং আমার শোকরিয়া ও তোমার মা-বাবার শোকরিয়া আদায় করো।’ (সুরা লোকমান, আয়াত : ১৪)

 

সন্তানের জন্য তুলনামূলকভাবে মা-ই সবচেয়ে বেশি ত্যাগ স্বীকার করেন। গর্ভধারণ, সন্তান জন্মদান, দুগ্ধপান করানো, রাত জেগে সন্তানের পরিচর্যা করা এবং তার লালন-পালনের অসংখ্য কষ্ট মা নীরবে বহন করেন।

 

এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা আরও বলেন, ‘আমি মানুষকে মা-বাবার সঙ্গে সদাচারের নির্দেশ দিয়েছি। তার মা তাকে অতি কষ্টে গর্ভধারণ করেছে এবং অতি কষ্টে প্রসব করেছে। তার গর্ভধারণ ও দুগ্ধপান ছাড়ানোর সময় লাগে ত্রিশ মাস। অবশেষে যখন সে তার শক্তির পূর্ণতায় পৌঁছে এবং চল্লিশ বছরে উপনীত হয়, তখন বলে— হে আমার রব! আমাকে সামর্থ্য দাও, তুমি আমার ও আমার মা-বাবার ওপর যে নেয়ামত দান করেছ, তার কৃতজ্ঞতা আদায় করতে। আমি যেন এমন সৎকর্ম করতে পারি যা তুমি পছন্দ করো। আমার বংশধরদেরও সংশোধন করে দাও। নিশ্চয়ই আমি তোমার কাছে তওবা করেছি এবং আমি মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত।’ (সুরা আহকাফ, আয়াত : ১৫)

 

রাসুলুল্লাহ (সা.) মা-বাবার মর্যাদা সম্পর্কে বলেছেন, ‘মা-বাবাই হলো তোমার জান্নাত এবং জাহান্নাম।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪২১) অর্থাৎ তাদের সন্তুষ্টি অর্জনের মধ্যেই রয়েছে জান্নাতের পথ, আর তাদের অবাধ্যতায় রয়েছে ধ্বংসের আশঙ্কা।

 

অন্য এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘যখন কোনো অনুগত সন্তান স্নেহ ও সম্মানের দৃষ্টিতে তার মা-বাবার দিকে তাকায়, তখন আল্লাহ তাআলা তার প্রতিটি দৃষ্টির বিনিময়ে একটি কবুল হজের সওয়াব দান করেন।’ (সুনানে বায়হাকি)

 

ইসলামে মায়ের মর্যাদা এতটাই উচ্চ যে বাবার তুলনায় মায়ের অধিকারকে তিনবার অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন, ‘তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক কোরো না এবং পিতা-মাতার সঙ্গে উত্তম আচরণ করো।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ৩৬)

 

এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘আমার কাছ থেকে সর্বাধিক সদাচরণ পাওয়ার অধিকার কার?’ জবাবে তিনি বললেন, ‘তোমার মা।’ লোকটি একই প্রশ্ন দ্বিতীয়বার করলে তিনি আবারও বললেন, ‘তোমার মা।’ তৃতীয়বারও একই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বললেন, ‘তোমার মা।’ এরপর চতুর্থবার প্রশ্ন করলে রাসুল (সা.) বললেন, ‘তোমার পিতা।’ (সহিহ বুখারি)

 

এই হাদিস থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়, ইসলামে মায়ের মর্যাদা ও অধিকার কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রত্যেক সন্তানের কর্তব্য হলো মা-বাবার প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও দায়িত্বশীল আচরণ করা এবং তাদের সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের চেষ্টা করা।