মুর্শিদাবাদে নাবালিকাকে যৌ/ন হেনস্থার জেরে প্রৌঢ়কে গণপিটুনি, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃ/ত্যু ও ৪ জন গ্রেফতার

সুজন চক্রবর্তী, ভারত প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬, ৮:২৮ অপরাহ্ণ
মুর্শিদাবাদে নাবালিকাকে যৌ/ন হেনস্থার জেরে প্রৌঢ়কে গণপিটুনি, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃ/ত্যু ও ৪ জন গ্রেফতার
৮৮

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে নাবালিকাকে যৌন হেনস্থা করার গুরুতর অভিযোগে এক প্রৌঢ়কে পিটিয়ে মারার চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। বিক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনির জেরে গুরুতর জখম হওয়া ওই প্রৌঢ় পরবর্তীতে হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। নিহত ওই ব্যক্তির নাম রুপতন মন্ডল বলে শনাক্ত করা হয়েছে। বর্বরোচিত ও নৃশংস এই ঘটনাটি সংগঠিত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বেলডাঙা থানার অন্তর্গত অত্যন্ত প্রত্যন্ত ফতেনগর গ্রামে। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাতে এই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মতো ঘটনাটি ঘটেছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ ও স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রকাশ, ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার রাতে অভিযুক্ত রুপতন মন্ডল মারাত্মকভাবে মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। সে সময় ওই গ্রামেরই এক নাবালিকাকে একা পেয়ে তিনি তার ওপর চড়াও হন এবং অশালীনভাবে যৌন হেনস্থা করেন বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি ঘটনাক্রমে দেখতে পেয়ে অভিযুক্তের নিজের স্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে এগিয়ে আসেন এবং ওই নাবালিকাকে রুপতনের কবল থেকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যান। কিন্তু অভিযুক্তের স্ত্রীর তৎপরতায় নাবালিকা রক্ষা পেলেও, এই ন্যাক্কারজনক জঘন্য ঘটনাটি গ্রামের সাধারণ মানুষের মধ্যে শেষ পর্যন্ত আর কোনোভাবেই চাপা থাকেনি।

নাবালিকাকে যৌন হেনস্থার এই সংবেদনশীল কথাটি গ্রামের সর্বত্র জানাজানি হতেই রাতেই স্থানীয় উত্তেজিত বাসিন্দারা দলে দলে ফতেনগর গ্রামের একটি নির্দিষ্ট এলাকায় জড়ো হতে শুরু করেন। এরপর বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত রুপতন মন্ডলকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে অত্যন্ত সঙ্ঘবদ্ধভাবে পাকড়াও করে। তাকে আটকে রেখেই উত্তেজিত জনতা তীব্র ক্ষোভে এলোপাথারি মারধর শুরু করে। উত্তেজিত গ্রামবাসীদের সঙ্ঘবদ্ধ গণপিটুনির জেরে গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত হয়ে ওই প্রৌঢ় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরবর্তীতে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা রক্তাক্ত ও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য দ্রুত বেলডাঙা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ওই ব্যক্তিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

এদিকে, হাসপাতাল থেকে প্রৌঢ়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে বেলডাঙা থানার পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত হাসপাতাল চত্বরে পৌঁছায়। পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। ঘটনার ভয়াবহতা বিবেচনা করে রাতেই বেলডাঙা থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ফতেনগর গ্রামে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। পুলিশি অভিযানে গণপিটুনি ও হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে রাতেই বিশ্বনাথ মন্ডল, রাজকুমার মন্ডল, সঞ্জয় মন্ডল এবং রিংকু মন্ডল নামের চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। এই পাশবিক মারধরের ঘটনায় আর কারা কারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিল, সেই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে পুলিশ। আজ শুক্রবার (২৯ মে) ধৃত চার অভিযুক্তকে বহরমপুর আদালতে তোলা হলে বিজ্ঞ বিচারক তাদের ৫ দিনের পুলিশ হেফাজতের (পিসি) নির্দেশ দেন। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং পলাতক বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় জোরদার তল্লাশি চালাচ্ছে।

যৌন হেনস্থার মতো জঘন্য অপরাধের যেমন কঠোরতম শাস্তি হওয়া আবশ্যক, তেমনই আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে গণপিটুনি দিয়ে কাউকে মেরে ফেলাও সমভাবে অপরাধ। মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা থানার পুলিশ দ্রুত মূল অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের মুখোমুখি করবে এবং এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনবে, এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ মহলের।