হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার

গাবতলীতে গলা কেটে নারী হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ২

মুহাম্মদ মতিন, বগুড়া : প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:৫৮ অপরাহ্ণ
গাবতলীতে গলা কেটে নারী হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ২
১৮২

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার সুখানপুকুর ইউনিয়নের মমিনহাটা গ্রামে গলা কেটে নারী হত্যার ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি হাসুয়াও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

 

পুলিশ জানায়, গত ২০ মে রাতে রিতা মজুমদার (৫০) ও তাঁর স্বামী বিধান মজুমদার রাতের খাবার শেষে আলাদা কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। গভীর রাতে রিতার কক্ষ থেকে চিৎকারের শব্দ শুনে তাঁর স্বামী লাঠি হাতে বাইরে বের হন। পরে পশ্চিম দুয়ারী কক্ষের দরজা খোলা অবস্থায় দেখতে পান। কক্ষের লাইট জ্বালিয়ে তিনি রিতা মজুমদারকে রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁর গলায় ধারালো অস্ত্রের গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। পরে তাঁর চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

 

ঘটনার পর বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদের নির্দেশনায় গাবতলী থানা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোপন অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে।

 

তদন্তের এক পর্যায়ে গত ২৪ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে মমিনহাটা গ্রামের মো. শাওন মিয়া (২০)কে নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং মো. আনোয়ার হোসেন (৩৫) নামের অপর এক সহযোগীর নাম প্রকাশ করেন। পরে পুলিশের অভিযানে আনোয়ার হোসেনকেও গ্রেফতার করা হয়।

 

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আনোয়ার ও শাওন এলাকায় ধান কাটার কাজ করতেন। প্রায় ১০ দিন আগে আনোয়ার জানতে পারেন, ভুক্তভোগীর বাড়িতে জমি বিক্রির টাকা রয়েছে। সেই টাকা লুটের উদ্দেশ্যেই তারা হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আনোয়ার স্থানীয় বাজার থেকে দুটি হাসুয়া কিনে আনেন।

 

ঘটনার রাতে রিতা মজুমদার ও তাঁর স্বামী বাড়ির বাইরে ধান ও খড় তোলার কাজে গেলে আসামিরা গোপনে বাড়িতে ঢুকে গরুর খাবার রাখার ঘরে লুকিয়ে থাকে। পরে গভীর রাতে শাওন দরজায় ধাক্কা দিলে রিতা মজুমদার টর্চলাইট নিয়ে বাইরে বের হন। এ সময় তিনি আনোয়ারকে চিনে ফেললে আনোয়ার হাসুয়া দিয়ে তাঁর গলায় কোপ দেয়। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে ভুক্তভোগীর স্বামীর চিৎকার শুনে দুই আসামি পালিয়ে যায়।

 

পুলিশ আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর ব্যবহৃত হাসুয়া দুটি বয়ারবাড়ী বিলের কচুরিপানার মধ্যে ফেলে রাখা হয়। সোমবার (২৫ মে) সাক্ষীদের উপস্থিতিতে সেখান থেকে হাসুয়া দুটি উদ্ধার করা হয়েছে।

 

এ সময় আসামিদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পোশাক, মোবাইল ফোন ও সিম কার্ডও জব্দ করা হয়েছে। গাবতলী থানা পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।