যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যয়ের আশঙ্কা
ঘাঘট নদী খননে ভাঙনের কবলে উচাবদির প্রধান সড়ক, আতঙ্কে স্থানীয়রা
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার রণচন্ডি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের উচাবদি এলাকায় ঘাঘট নদীতে চলমান খনন কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। নদী খননের পর থেকেই এলাকার প্রধান সড়কটি ধীরে ধীরে নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে পরিস্থিতি দেখার যেন কেউ নেই—এমন অভিযোগও করেছেন তারা।
“ঘাঘট নদীর প্রবাহ পুনরুদ্ধার, শুষ্ক মৌসুমে নদীর প্রবাহ নিশ্চিতকরণ, নৌ-পথ উন্নয়ন ও বন্যা ব্যবস্থাপনা” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় নদী খননের কাজ চলমান রয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত ও ঝুঁকিপূর্ণ খননের কারণে নদীর তীরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন জলঢাকা, গঙ্গাচড়া ও কিশোরগঞ্জ উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা এই সড়ক। কিন্তু বর্তমানে সামান্য বৃষ্টি কিংবা নদীর পানির ঢেউয়ের আঘাতেই রাস্তার বিভিন্ন অংশ ভেঙে নদীতে পড়ে যাচ্ছে।
এলাকাবাসীরা জানান, প্রতিদিনই নতুন নতুন অংশে ভাঙন দেখা দিচ্ছে। শুধু সড়ক নয়, নদীর তীরবর্তী বহু বসতবাড়িও এখন হুমকির মুখে রয়েছে। অনেক পরিবার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। রাতের অন্ধকারে ভাঙনের শব্দে ঘুম ভেঙে যায় তাদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে অচিরেই পুরো সড়কটি নদীগর্ভে হারিয়ে যেতে পারে। এতে কয়েকটি উপজেলার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
এ অবস্থায় এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, জনপ্রতিনিধি ও নীতিনির্ধারকদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, অবিলম্বে নদী ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ সড়কটি রক্ষায় টেকসই ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
স্থানীয়দের আকুতি—“আমাদের রাস্তাটি বাঁচান, আমাদের বাড়িঘর বাঁচান, আমাদের বাঁচান।”





