নভেম্বরে চালুর লক্ষ্য: এসপিএম প্রকল্পে অপারেটর নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু
কক্সবাজারের মহেশখালীতে নির্মিত দেশের অন্যতম আধুনিক জ্বালানি অবকাঠামো সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) প্রকল্পে অপারেটর নিয়োগের দরপত্র মূল্যায়ন শুরু হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক আইএলএফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন মূল্যায়ন পরামর্শক হিসেবে কাজ করছে। টেন্ডারে তিনটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে, এবং সব প্রক্রিয়া শেষ হলে আগামী নভেম্বরের মধ্যে পাইপলাইনে জ্বালানি তেল পরিবহন শুরু হতে পারে।
প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রকল্পটি ২০২৪ সালে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হলেও অপারেটর নিয়োগে বিলম্বের কারণে এখনো পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। ফলে বড় অর্থনৈতিক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এটি দুই বছর ধরে প্রায় অলস রয়েছে।
এই এসপিএম ব্যবস্থার মাধ্যমে গভীর সমুদ্র থেকে সরাসরি পাইপলাইনে তেল এনে মহেশখালী হয়ে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পৌঁছানো সম্ভব। এতে ১ লাখ টন তেল খালাসে সময় ১১ দিন থেকে কমে মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় নামবে। এতে পরিবহন ব্যয় কমবে, অপচয় হ্রাস পাবে এবং বছরে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।
প্রকল্পটিতে প্রায় ২ লাখ টন তেল মজুতের সক্ষমতা রয়েছে, যা দেশের এক মাসের ক্রুড অয়েল ও এক সপ্তাহের ডিজেলের চাহিদা পূরণে সক্ষম। তবে দক্ষ অপারেটর না থাকায় এই সক্ষমতা এখনো পুরোপুরি ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
বিপিসি জানিয়েছে, টেন্ডার মূল্যায়ন শেষে দ্রুত অপারেটর নিয়োগ ও চুক্তি সম্পন্ন করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে স্থানীয় জনবলকে প্রশিক্ষণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত এসপিএম চালু করা গেলে জ্বালানি আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


