বাউবির ইতিহাসে প্রথম, স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করলেন তৃতীয় লিঙ্গের তানিশা
উচ্চশিক্ষার অঙ্গনে নতুন ইতিহাস গড়েছেন তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থী তানিশা ইয়াসমিন চৈতি। বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার ক্ষেত্রে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়টির এমএসএস ইন সোশিওলজি প্রোগ্রামে প্রথম তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থী হিসেবে এ সাফল্য অর্জন করেন তানিশা।
২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানিশা ৪.০০-এর মধ্যে ৩.৩০ সিজিপিএ পেয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। তাঁর এই অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে শুক্রবার (৩০অক্টোবর২০২৬) প্রতিষ্ঠান হলরুমে বিশেষ সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয় তাঁকে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন তানিশা ইয়াসমিন চৈতির হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন। বাউবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।
শিক্ষাক্ষেত্রে সামাজিক পরিচয় কিংবা প্রান্তিকতা যে অগ্রযাত্রার বাধা হতে পারে না, তানিশার সাফল্য যেন তারই বাস্তব উদাহরণ। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার মূলধারার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরিতে কাজ করছে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে বাউবির রংপুর আঞ্চলিক কেন্দ্রের অধীনে পৃথক স্টাডি সেন্টার স্থাপন করে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
তানিশার অর্জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থীদের জন্য বাউবির বিশেষ উদ্যোগের কথা শুনে সন্তোষ প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী। এ ধরনের অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা কার্যক্রমের প্রসার ও উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।
তানিশা ইয়াসমিন চৈতির এই অর্জন কেবল একটি ডিগ্রি অর্জনের গল্প নয়; এটি সমান অধিকার, সামাজিক মর্যাদা ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। তাঁর সাফল্য তৃতীয় লিঙ্গের আরও অনেক মানুষকে উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে আসার সাহস ও অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে আশা করা হচ্ছে।









