আমন ধান এর ঘ্রাণে হেমন্তের মাঠে মাঠে ব্যস্ত কৃষক

মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম আমিন উপজেলা প্রতিনিধি আখাউড়া প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১:২২ অপরাহ্ণ
আমন ধান এর ঘ্রাণে হেমন্তের মাঠে মাঠে ব্যস্ত কৃষক
২৭

আমাদের দেশ” কবিতায় কবি বজলুর রশীদ লিখেছেন “সোনার ফসল ফলে ক্ষেত ভরা ধান, সকলের মুখে হাসি, গান আর গান।’ মাঠ জুড়ে সোনালী ধানের মৌ মৌ গন্ধে মনের আনন্দে কাজ করছেন কৃষক। কথা বলার মতো ফুরসত নেই তাদের। পাকা ধানের গন্ধে কৃষকদের মন এখন বেশ প্রফুল্ল।

পাকা ধান কাঁটতে হাতের কাস্তে নিয়ে মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। অন্যদিকে মাঠ থেকে নতুন ধান বাড়িতে তোলার জন্য আঙ্গিনা পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করছেন কৃষাণীরা। আবার অনেকে কুলা ও ফ্যান দিয়ে ধান পরিস্কারের কাজ করছেন। ধান ঝাড়াই-মাড়াই ও সিদ্ধ করার কাজ করছেন রাত অবধি জেগে। শিশু, বৃদ্ধ কেউ বসে নেই।

নবান্নের আনন্দে আমন ধান কাটার এমন ধুম লেগেছে আখাউড়া উপজেলার প্রতিটা এলাকায়। বিশেষ করে উপজেলার সীমান্তবর্তী অঞ্চল গাজীর বাজার, বাউতলা, হিরাপুর, আনোয়ারপুর, করি পাইকাসহ প্রান্তিক অঞ্চলের প্রতিটি বাড়িতে বাড়িতে এখন আমন ধান কাটা মাড়াই চলছে পুরোদমে। মাঠের সোনালী ধান এখন ঘরে তুলতে ব্যস্ত এ অঞ্চলের কৃষকরা। মাঠে মাঠে সোনালী পাকা আমন ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে অনাবিল সুখের হাসি ফুটে উঠেছে। প্রতিটি ক্ষেত যেন সোনালী রঙের চাদর দ্বারা আবৃত। প্রকৃতি যেন সেজেছে হলুদ রঙে।

ধান কেটে অনেক কৃষকই আঁটি বেঁধে কাঁধে করে, আবার অনেকেই বিভিন্ন যানবহনে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন। ফসলের ক্ষেতে, বাসা-বাড়ির উঠানে চলছে ধান মাড়াইয়ের কাজ। এসব ধান নিয়ে কৃষকের যেমন ব্যস্ততা তেমনি আনন্দও প্রচুর। বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় নির্বিঘ্নে ধান কাটা মাড়াই ও শুকানোর কাজ করতে পারছেন কৃষাণ- কৃষানীরা। কৃষকের ঘরে ঘরে শুরু হয়েছে নবান্ন উৎসব। ‘ধান কাটার গান’ কবিতায় কবি – লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী লিখেছেন – ধান কাটা হলো সারা/ উঠোনে ধান গোলা ভরা/ খুশিতে ওঠে মেতে/ চাষীদের মন। চাষীর গায়ে মোটা কাপড়/মোটা চালের বাড়ে কদর/ ঢেঁকি পেতে ধান ভানে/ কিষান বধূগণ।

এ যেন বাঙালি সংস্কৃতির চিত্র ফুটে উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সহ আখাউড়া উপজেলার প্রতিটা গ্রামগঞ্জে। চলতি আমন মৌসুমে ফলন ভালো ও দাম বেশি হওয়ায় কৃষকও বেশ খুশি।

গ্রাম বাংলায় কৃষকেরা নবান্ন উৎসব পরিপূর্ণভাবে উদযাপনের জন্য মেয়ে-জামাইসহ আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে আমন্ত্রণ করার পাশাপাশি ধুমধামে চলছে নতুন চালের পোলাও, ভাপা পিঠা ও পায়েসসহ রকমারি নিত্য নতুন খাবার তৈরির আয়োজন। গ্রাম্য বধুর জামাইকে সঙ্গে নিয়ে বাপের বাড়িতে নবান্ন উৎসব করার জন্য অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছেন স্বজনরা।