ধুনটে পৃথক বিস্ফোরক মামলায় আ.লীগ ও যুবলীগ নেতা গ্রেফতার
বগুড়ার ধুনটে পৃথক দুটি ককটেল হামলার মামলায় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের দুই নেততাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন গোসাইবাড়ী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম রাঙ্গা (৫০) এবং আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য লাল মিয়া (৪৫)।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে গোসাইবাড়ী বাজার এলাকা থেকে রফিকুল ইসলাম রাঙ্গাকে গ্রেফতার করা হয়। একই দিন রাত ১টার দিকে মানিকপোটল গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে লাল মিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ধুনট শহরের শহীদ মিনার চত্বরে জড়ো হয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে মশাল মিছিল বের করেন। এ সময় পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রিপন শেখ ও তাঁর লোকজন মিছিলে বাধা দিলে মিছিলকারীরা তাঁদের লক্ষ্য করে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি রিপন শেখ বাদী হয়ে ধুনট থানায় মামলা করেন। মামলায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৯৬ জন নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়। ওই মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে রফিকুল ইসলাম রাঙ্গাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি গোসাইবাড়ী ইউনিয়নের পূর্বপাড়া এলাকার মৃত তফিজ উদ্দিন মণ্ডলের ছেলে।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর রাত প্রায় ২টার দিকে উপজেলার চৌকিবাড়ী ইউনিয়নের ভুবনগাঁতী উত্তরপাড়া তিনমাথা এলাকায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মশাল মিছিল বের করেন। এ সময় মিছিল থেকে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর গোপালনগর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাজু আহম্মেদ বাদী হয়ে ৩৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৬০ থেকে ৭০ জনকে আসামি করে ধুনট থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে লাল মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি উপজেলার মানিকপোটল গ্রামের মৃত মঞ্জিল আকন্দের ছেলে।
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, পৃথক মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

