ফটিকছড়িতে বনভূমি রক্ষা ও অবৈধ দখল প্রতিরোধে ইউএনও’র কড়া হুঁশিয়ারি
চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলায় প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা, বনভূমি সংরক্ষণ এবং অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে সরকারি সম্পদ উদ্ধারের লক্ষ্যে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফটিকছড়ি উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় উপজেলার বিভিন্ন রেঞ্জ এবং বিট কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন ফটিকছড়ির উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জনাব সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম। মতবিনিময় সভায় প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল উত্তর চট্টগ্রামের ফুসফুস হিসেবে পরিচিত ফটিকছড়ির বিশাল বনভূমি রক্ষা, অবৈধ জবরদখল প্রতিরোধ এবং আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম জোরদার করা।
সভার শুরুতে ফটিকছড়ি উপজেলার আওতাধীন বিভিন্ন বনাঞ্চলের বর্তমান অবস্থা, বন উজাড়ের কারণে সৃষ্ট পরিবেশগত ঝুঁকি এবং বনভূমি দখলে স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের তৎপরতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তারা তাদের কাজের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ এবং সীমাবদ্ধতার বিষয়গুলো প্রশাসনিক প্রধানের সামনে তুলে ধরেন। বিশেষ করে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় জনবলের অভাব এবং অবৈধ কাঠ পাচারকারীদের সশস্ত্র তৎপরতার বিষয়টি সভায় গুরুত্বের সাথে আলোচিত হয়। বক্তারা বনভূমি উজাড় এবং অবৈধ দখলের ফলে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ওপর পড়া দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এ সময় সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বনসম্পদ রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, বনভূমির এক ইঞ্চি জায়গাও অবৈধ দখলে রাখা যাবে না। বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের পাশাপাশি অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরি করে দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার নির্দেশনা দেন তিনি। ইউএনও জোর দিয়ে বলেন, বন সম্পদ রক্ষা করা শুধু প্রশাসনের একার দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের সকলের সম্মিলিত জাতীয় দায়িত্ব। তিনি বন বিভাগের সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আরও আন্তরিকতা, সততা ও দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করার আহ্বান জানান এবং বন সংরক্ষণ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও দৃশ্যমান করার কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন।
সভায় টেকসই বন ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার লক্ষ্যে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, পাহাড়ে বসবাসরত জনগণকে বনের উপকারিতা সম্পর্কে সচেতন করতে হবে এবং তাদের সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় এনে বন রক্ষায় অংশীদার করতে হবে। জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারলে শুধু আইন প্রয়োগ করে বিশাল এই বনাঞ্চল রক্ষা করা কঠিন হবে। পরিশেষে, ফটিকছড়ির বনভূমি রক্ষা, নতুন সবুজায়ন কার্যক্রম সফল করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
ফটিকছড়িতে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে উপজেলা প্রশাসনের এই মতবিনিময় সভা বনাঞ্চল রক্ষায় নতুন গতির সঞ্চার করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইউএনও’র কঠোর নির্দেশনা এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে অবৈধ দখল ও বন উজাড় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে, যা এই অঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে।


