জ্বালানি সংকট নিরসনে ঘরে ঘরে বায়োগ্যাস প্লান্ট গড়ে তুলতে হবে: সৈয়দপুরে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক
oplus_0
দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট দূর করতে ঘরে ঘরে বায়োগ্যাস প্লান্ট গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি বলেন, যাদের অন্তত ৩ থেকে ৫টি গরু অথবা শতাধিক হাঁস-মুরগি রয়েছে, তাদের নিজ উদ্যোগেই এ ধরনের প্রকল্প গড়ে তোলা উচিত। এ ক্ষেত্রে সরকার সার্বিক সহায়তা দেবে। এর মাধ্যমে ব্যক্তি পর্যায়ে আর্থিক লাভবান হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখা সম্ভব, যা একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে সবার কর্তব্য।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের আইসঢাল গ্রামে একটি বায়োগ্যাস প্লান্ট পরিদর্শন ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে দেশের সর্বস্তরের যুবসমাজকে এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান প্রতিমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনের জন্য সরকারি ঋণ হিসেবে জেলার ৫ জন উদ্যোক্তার মাঝে সর্বমোট সাড় সাত লাখ টাকার (প্রতিজনকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা) চেক বিতরণ করা হয়। পরবর্তীতে গ্যাসের চুলা জ্বালিয়ে উদ্যোক্তা মাহবুব মুকুলের বায়োগ্যাস প্লান্টের সরবরাহ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নীলফামারী জেলা প্রশাসক হুমায়ুন কবির, সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার ও উদ্যোক্তা মাহবুব মুকুল। নীলফামারী জেলা যুব ও ক্রীড়া অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিলগির আলমের সভাপতিত্বে এবং সৈয়দপুর উপজেলা যুব ও ক্রীড়া কর্মকর্তা মতিউর রহমানের সঞ্চালনায় এতে আরও উপস্থিত ছিলেন সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা, সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করিম রেজা, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ, জামায়াতের উপজেলা সেক্রেটারি এবং স্থানীয় যুব উদ্যোক্তারা।
প্রতিমন্ত্রীর হাত থেকে ঋণের চেক পাওয়া ৫ উদ্যোক্তা হলেন— নীলফামারী সদর উপজেলার পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের নিলুফা বেগম (স্বামী: হাবিবুর রহমান), জলঢাকা উপজেলার পশ্চিম গোলমুন্ডার মমতা ইয়াসমিন (স্বামী: মমিনুর রহমান), ডাউয়াবাড়ির সোহরাব হোসেন (পিতা: মৃত ময়েজ উদ্দিন), খারিজা গোলনার ওয়াহিদুজ্জামান (পিতা: ওলিয়ার রহমান) এবং কালকেউট মীরগঞ্জের বকুল হোসাইন (পিতা: মোশফিকুর রহমান)।
বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, যুবসমাজকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ শীর্ষক মূলমন্ত্র নিয়ে কাজ করছে। বর্তমানে প্রায় ৮৩টি বিষয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুব সমাজকে দক্ষ করে গড়ে তোলা হচ্ছে, যার একটি সফল প্রতিচ্ছবি হলো বায়োগ্যাস প্রকল্প। বায়ো-গ্যাস প্লান্ট থেকে শুধু জ্বালানি গ্যাস ও জৈব সার নয়, বরং এটি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রযুক্তি নিয়েও কাজ চলছে। প্রতিটি ঘরে এটি ছড়িয়ে পড়লে গ্যাস ও সারের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংকট নিরসনেও বড় ভূমিকা রাখবে।
ক্রীড়া ও প্রযুক্তির উন্নয়ন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সরকার দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ তৈরির পদক্ষেপ নিয়েছে। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের স্টেডিয়ামগুলো আধুনিকায়ন করা হচ্ছে, যেন তরুণ সমাজ মাদক ও অপরাজনীতি থেকে দূরে থেকে ক্রীড়া নৈপুণ্য বিকাশের সুযোগ পায়। এছাড়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সাথে তাল মেলাতে ফ্রিল্যান্সিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ (এআই) সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, যাতে যুবসমাজ ঘরে বসেই বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ করে গড়ে তুলতে প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায় থেকেই এ সংক্রান্ত শিক্ষা যুক্ত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।









