গ্রেফতার ১
চাঁদা না দেওয়ায় শিবপুরে যুবককে নির্যাতন, স্বর্ণালংকার-টাকা লুটের অভিযোগ
নরসিংদীর শিবপুরে চাঁদা ও মুক্তিপণ আদায়ের দাবিতে রফিকুল ইসলাম নামে এক যুবককে অপহরণ করে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি চক্রের বিরুদ্ধে। এ সময় ভুক্তভোগীর ভাড়া বাসায় হামলা চালিয়ে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও দুটি মোবাইল ফোন লুটেরও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা অভিযোগের প্রায় তিন বছর পর মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতার ব্যক্তির নাম মিঠু। গত ১ নভেম্বর রাত আনুমানিক ১২টার দিকে শিবপুর উপজেলার মদিনা জুটমিল এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি এ মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৭ ও ৮ অক্টোবর টাঙ্গাইলের সখীপুর থানা এলাকা থেকে সুমী নামের এক নারী শিবপুর উপজেলার পুটিয়া ইউনিয়নের কারারচর এলাকায় আসেন। পরে পুলিশের সহায়তায় সুমীর মা-বাবা ও অন্যান্য আত্মীয়স্বজনের উপস্থিতিতে মধ্য কারারচর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ৮ অক্টোবর রাত ১টার দিকে সুমীকে তার মা-বাবার সঙ্গে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় প্রধান অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন সুমন তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই রাত ৩টার দিকে মধ্য কারারচর মদিনা জুটমিলের পেছন থেকে রফিকুল ইসলামকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যান অভিযুক্তরা। পরে তাকে একটি স্থানে আটকে রেখে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এ সময় তার কাছে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ভুক্তভোগী দম্পতিকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাদের ভাড়া বাসায় হামলা চালায় অভিযুক্তরা। এ সময় বাসার আলমারিতে থাকা ৮ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের ব্রেসলেট, ১ ভরি ওজনের এক জোড়া স্বর্ণের কানের দুল, পাঁচটি স্বর্ণের আটি, ১০ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের গলার চেইন, আড়াই ভরি ওজনের রুপার নূপুর, নগদ ১৫ হাজার টাকা এবং দুটি স্যামসাং গ্যালাক্সি এ-৩০ মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায় তারা।
ঘটনার একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় প্রধান অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন সুমনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজের নাম-পরিচয় এবং ঘটনায় জড়িত পলাতক সহযোগীদের নাম প্রকাশ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তারা হলেন দেলোয়ার হোসেন সুমন (৩৪), পিতা মিলন খান; মোহা সানি (৩২) ও মোহা মিষ্টি ওরফে মিঠু (৪০), উভয়ের পিতা খোকা মিয়া; ফাহাদ (২৮), পিতা অজ্ঞাত; রুবেল (৩৪), পিতা চাঁন মিয়া; আজিজুল ইসলাম (৩৮) ও কাইয়ুম (৩২), উভয়ের পিতা অজ্ঞাত। তারা সবাই শিবপুর উপজেলার মধ্য কারারচর এলাকার বাসিন্দা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্ত্রী সাবিকুন্নাহার সুমী বাদী হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করে শিবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শিবপুর মডেল থানার সাব-ইন্সপেক্টর নিবাস অভিযান চালিয়ে গত ১ নভেম্বর রাত আনুমানিক ১২টার দিকে মদিনা জুটমিল এলাকা থেকে খোকা মিয়ার ছেলে মিঠুকে গ্রেফতার করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন এবং মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি ছিলেন।
এ বিষয়ে শিবপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কোহিনূর মিয়া জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গ্রেফতার আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মামলার বাকি পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।











