গাছায় ৬ বছর পর তৃতীয় লিঙ্গের নেত্রী লাইলী হ/ত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
দীর্ঘ ৬ বছরের পলাতক জীবনের অবসান ঘটল। গাজীপুরের চাঞ্চল্যকর ও বহুল আলোচিত তৃতীয় লিঙ্গের প্রবীণ নেত্রী লাইলী সরকার (৭০) হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে অবশেষে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। রবিবার (১ নভেম্বর) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কোতোয়ালি থানা এলাকায় এক শ্বাসরুদ্ধকর ও সফল অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি আশিকুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) গাছা থানা পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘদিন পর প্রধান আসামি পুলিশের খাঁচায় বন্দি হওয়ায় ভুক্তভোগীর স্বজন এবং দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় থাকা প্রান্তিক তৃতীয় লিঙ্গের সম্প্রদায়ের মাঝে এক বিরাট স্বস্তি ফিরে এসেছে।
গাছা থানা পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে ঘটনার বিস্তারিত পটভূমি সম্পর্কে জানা যায়, আজ থেকে প্রায় ছয় বছর আগে, ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে গাজীপুরে অত্যন্ত নির্মম ও পৈশাচিকভাবে খুন হন তৃতীয় লিঙ্গের অধিকার আদায়ের পরিচিত মুখ ও প্রবীণ নেত্রী ৭০ বছর বয়সী লাইলী সরকার। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি সে সময় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে ন্যায়বিচারের আশায় গাজীপুরের গাছা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। ওই হত্যা মামলার নথি নম্বর হলো ২৭ (১২) ২০২০। কিন্তু ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে অত্যন্ত সুকৌশলে আত্মগোপনে চলে যান এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত আশিকুজ্জামান। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বারবার স্থান পরিবর্তন করে অধরাই ছিলেন এই ধূর্ত আসামি।
তবে অপরাধী যত কৌশলীই হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত তাকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়াতেই হয়—এই প্রবাদটি আবারও সত্য প্রমাণিত হলো। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ওই আসামিকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে কাজ শুরু করে গাছা থানা পুলিশ। অবশেষে গোপন সংবাদ ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির নিবিড় সহায়তায় আসামির সুনির্দিষ্ট অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরপর গাছা থানার অত্যন্ত চৌকস ও অভিজ্ঞ তদন্ত পরিদর্শক মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল সরদারের সুযোগ্য নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ ও দক্ষ আভিযানিক দল ঢাকা মহানগরীর কোতোয়ালি থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। রবিবার দুপুরের এই ঝটিকা অভিযানে দীর্ঘ ছয় বছর ধরে আত্মগোপনে থাকা হত্যা মামলার প্রধান খুনি আশিকুজ্জামানকে সম্পূর্ণ আকস্মিকভাবে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
গাছা থানা পুলিশের এই সফল অভিযান সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল রহস্য উদ্ঘাটনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দীর্ঘ সময় পর হলেও চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস আরও সুদৃঢ় হয়েছে। অপরাধ করে কেউ পার পাবে না এবং দেরিতে হলেও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে, পুলিশের এই নিরলস ও সফল অভিযান তারই এক সুস্পষ্ট ও শক্তিশালী প্রমাণ।
তৃতীয় লিঙ্গের নেত্রী লাইলী সরকার হত্যা মামলার প্রধান আসামি আশিকুজ্জামান দীর্ঘ ৬ বছর পর গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, আইনের হাত থেকে অপরাধীদের চিরকাল লুকিয়ে থাকা সম্ভব নয়। গাছা থানা পুলিশের এই সফল ও প্রশংসনীয় অভিযান সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ন্যায়বিচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক। এখন সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগীর স্বজনদের প্রত্যাশা, দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।









