কোম্পানীগঞ্জে পাথর কোয়ারি বন্ধে বেকার হাজারো শ্রমিক: নেতাদের নীরবতায় ক্ষোভ, ফায়দা লুটতে বেষ্টনী সরানোর পাঁয়তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কোম্পানীগঞ্জ (সিলেট) প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৮ অপরাহ্ণ
কোম্পানীগঞ্জে পাথর কোয়ারি বন্ধে বেকার হাজারো শ্রমিক: নেতাদের নীরবতায় ক্ষোভ, ফায়দা লুটতে বেষ্টনী সরানোর পাঁয়তারা
৪৩

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা দীর্ঘকাল ধরে পাথর কোয়ারিগুলোর ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারি বন্ধ থাকায় এই অঞ্চলের হাজার হাজার পাথর শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিক বেকার হয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। জনজীবনের এই স্থবিরতা ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেই নতুন করে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে কোম্পানীগঞ্জের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভোলাগঞ্জ টু ছনবাড়ী সড়কের নিরাপত্তা রক্ষার্থে স্থাপিত লোহার বার বা বেষ্টনী রাতের আঁধারে রহস্যজনকভাবে খুলে ফেলার একটি গোপন পরিকল্পনার খবরে। সাধারণ মানুষের পেটে লাথি মেরে সড়ক নিরাপত্তার এই বেষ্টনী ভেঙে কার স্বার্থ রক্ষা করা হচ্ছে, তা নিয়ে এলাকাজুড়ে এখন নানা প্রশ্নের ডালপালা মেলছে।

স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী জনসাধারণের জোরালো অভিযোগ, কোম্পানীগঞ্জের কিছু স্বার্থান্বেষী ও সুবিধাবাদী নেতা নেপথ্যে থেকে এই লোহার বেষ্টনী অপসারণের গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন। তাদের এই অপতৎপরতার মূল উদ্দেশ্য হলো— প্রতিবেশী ছাতক উপজেলার চেলা ও ইছামতির প্রভাবশালী পাথর ব্যবসায়ীদের যাতায়াত এবং পাথর পরিবহনের রাস্তা পুরোপুরি সহজ করে দেওয়া। ছাতকের ব্যবসায়ীদের পথ সুগম করার মাধ্যমে স্থানীয় ওই অসাধু চক্রটি গোপনে বিশাল অঙ্কের ফায়দা লোটার পাঁয়তারা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিজেদের আখের গোছাতে গিয়ে তারা কোম্পানীগঞ্জের সাধারণ মানুষের অধিকার ও সড়কের নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছেন।

এদিকে, পাথর কোয়ারি বন্ধ থাকায় সৃষ্ট কর্মসংস্থানের তীব্র সংকট নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের রহস্যজনক নীরবতা সাধারণ মানুষকে চরম হতাশায় ডুবিয়েছে। এলাকাবাসীর মতে, প্রতিটি নির্বাচনের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা সাধারণ মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়ার নানান গালভরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। নিরীহ মানুষ তাদের আশ্বাসে বিশ্বাস রেখে ভোট দিলেও, নির্বাচনে জয়লাভের পর সেই নেতাদের আর কোয়ারি চালুর বিষয়ে কোনো ধরনের মিটিং, মিছিল বা দৃশ্যমান উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। নিজ উপজেলার জনসাধারণের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার মতো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে নেতাদের এই নির্লিপ্ততা ও প্রতিশ্রুতিভঙ্গ জনমনে চরম ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। ভোটের সময় যারা কোয়ারি খুলে দেওয়ার বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট নিয়েছিলেন, আজ হাজারো মানুষের বেকারত্বের এই হাহাকারের মাঝে তারা কেন পুরোপুরি নিশ্চুপ, সেই প্রশ্ন এখন সবার মুখে মুখে।

জনসাধারণের এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এখন প্রতিবাদে রূপ নিচ্ছে। কোম্পানীগঞ্জের এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী শ্রমিকরা অবিলম্বে ভোলাগঞ্জ টু ছনবাড়ী সড়কের নিরাপত্তা বেষ্টনী অপসারণের গভীর ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত নেপথ্যের কুশীলবদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, অসাধু চক্রের পকেট ভারী করার সুযোগ বন্ধ করে, জনজীবনের দীর্ঘদিনের স্থবিরতা দূর করতে এবং বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোরালো দাবি জানিয়েছেন তারা।

কোম্পানীগঞ্জের সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকার প্রধান উৎস ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারি বন্ধ থাকা অবস্থায় প্রতিবেশী উপজেলার ব্যবসায়ীদের সুবিধা করে দেওয়ার এই অপচেষ্টা অত্যন্ত অমানবিক ও নিন্দনীয়। কর্মহীন মানুষের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলা এবং সড়কের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার এই ষড়যন্ত্র অবিলম্বে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতিদান দিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে দ্রুত কোয়ারি চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে এবং স্বার্থান্বেষী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।