তদন্তের দাবি
আশুলিয়ায় ইয়ারপুর ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ
ঢাকার সাভার উপজেলার আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোহাম্মদ আফজাল হোসেনের কর্মস্থলে নিয়মিত উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে তাঁকে একাধিকবার পরিষদে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন প্রতিবেদক। এ সময় তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদে সচিবকে না পেয়ে সহকর্মীদের কাছে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে জানতে চান প্রতিবেদক। তখন তিনি সাভার উপজেলা পর্যায়ে দাপ্তরিক কাজে গেছেন বলে জানানো হয়। তবে তাঁর অনুপস্থিতির কারণ, দাপ্তরিক কাজের ধরন এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছিল কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।
প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে একাধিকবার সরাসরি তাঁর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তাঁকে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে কর্মস্থলে কোনো কর্মকর্তাকে অনুপস্থিত পাওয়া গেলেই তাঁর বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ প্রমাণিত হয় না। তিনি দাপ্তরিক প্রয়োজনে বাইরে ছিলেন কি না, ছুটি বা প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিয়েছিলেন কি না এবং নির্ধারিত সময়ে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধিবিধান অনুসরণ করা হয়েছে কি না—এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
ইউনিয়ন পরিষদ স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিক সেবা প্রদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। জন্মনিবন্ধন ও বিভিন্ন প্রত্যয়নপত্রসহ পরিষদের আওতাধীন সেবা নিতে আসা নাগরিকদের যেন অযথা ভোগান্তিতে পড়তে না হয়, সে জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি, দায়িত্ব বণ্টন এবং বিকল্প সেবা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
এ অবস্থায় ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের উপস্থিতির রেকর্ড, দাপ্তরিক প্রয়োজনে বাইরে যাওয়ার তথ্য এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাই করার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে পরিষদ কর্তৃপক্ষ ও সাভার উপজেলা প্রশাসনের কাছে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে সচিব মোহাম্মদ আফজাল হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে অভিযোগের বিষয়ে আরও পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যাবে।
জনস্বার্থে প্রশ্ন উঠেছে, ইউনিয়ন পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের নিয়মিত উপস্থিতি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী ধরনের তদারকি করছে। সাধারণ মানুষ যাতে নির্ধারিত সময়ে সরকারি সেবা পান, সে জন্য কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে—তা-ও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটন করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

