নরসিংদীর শিবপুরে কিশোর গ্যাংয়ের সশস্ত্র তাণ্ডব: বাড়িঘরে লুটপাট, গু/লিতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ব্যবসায়ী ঢামেকে
নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার পুটিয়া ইউনিয়নের উত্তর কারারচর গ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের এক ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, চাঁদা না পেয়ে এবং পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে এক ব্যবসায়ী ও তাঁর পরিবারের ওপর এই পৈশাচিক হামলা চালানো হয়। বুধবার (৪ নভেম্বর ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সংঘটিত এই হামলায় মো. নবী হোসেন (৪০) নামের এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি চাপাতির কোপে গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত নবী হোসেন উত্তর কারারচর গ্রামের বাসিন্দা ফজর রহমানের ছেলে। এই বর্বরোচিত হামলায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, জুট ব্যবসায়ী খোকা মিয়ার ছেলে সানি (৩৮), আবদুল মোমেন মিয়ার ছেলে নয়ন (৩৫), ওসমান মিয়ার ছেলে কাউছার ও রাব্বি (৩০), কাউছারের মামা ইউসুফ, মৃত ফজলুর ছেলে মোতালিব (৩০), মদিনা জুট মিল এলাকার শুকুর আলীর ছেলে আজিজুল (৩৫), সাকিবুল (২৫), জিকু, কাইয়ুম এবং নোমানসহ প্রায় ৫০-৬০ জনের এক বিশাল কিশোর গ্যাং দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সুসজ্জিত হয়ে উত্তর কারারচর গ্রামে প্রবেশ করে এই তাণ্ডব চালায়।
হামলাকারীরা প্রথমেই নবী হোসেনের ভাই মনিরের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। সেখানে তারা ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করে এবং বাড়ি থেকে নগদ টাকা-পয়সাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়। মনিরের বাড়িতে তাণ্ডব চালানোর পর তারা নবী হোসেনের ওপর চড়াও হয়। হামলাকারীরা তাঁকে লক্ষ্য করে অন্তত ৪ রাউন্ড গুলি ছোড়ে এবং এরপর এলোপাতাড়ি চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে তাঁর শরীর ক্ষতবিক্ষত করে দেয়।
ঘটনার ভয়াবহতা বর্ণনা করে আহত নবী হোসেনের স্ত্রী জানান, “হামলাকারীরা প্রথমে আমার দেবর মনিরকে খুঁজতে আসে। তাকে না পেয়ে তারা আমার স্বামীকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে এবং এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে থাকে। একটি গুলি সরাসরি তাঁর পেটের ভেতরে ঢুকে যায়। পরিস্থিতি দেখে আমরা ও আমাদের ছেলে-মেয়ে তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তারা আমাদের ওপরও অমানবিক হামলা চালায়, মারধর করে এবং শ্লীলতাহানি ঘটায়। পরবর্তীতে আমাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।”
গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় নবী হোসেনকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানকার দায়িত্বরত চিকিৎসকরা তাঁর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) রেফার করেন। ঢামেকে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর শরীর থেকে গুলিটি বের করতে সক্ষম হন। বর্তমানে তিনি সেখানে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
খবর পেয়ে শিবপুর মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আলামত সংগ্রহ করে। এ বিষয়ে শিবপুর মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। হামলায় জড়িত কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের শনাক্ত করে তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক দল সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে।
নরসিংদীতে কিশোর গ্যাংয়ের এমন সশস্ত্র তাণ্ডব, দিনের বেলায় প্রকাশ্যে গুলি ও কোপানোর ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য চরম উদ্বেগজনক। সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সমাজে শান্তি ফিরিয়ে আনতে অবিলম্বে এই কিশোর গ্যাংয়ের হোতাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

