গাজীপুরে আনসার মৌলিক প্রশিক্ষণের সমাপনী কুচকাওয়াজ, দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তায় পেশাদারিত্বের আহ্বান মহাপরিচালকের

ফাহিম ফরহাদ, গাজীপুরঃ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:২৩ অপরাহ্ণ
গাজীপুরে আনসার মৌলিক প্রশিক্ষণের সমাপনী কুচকাওয়াজ, দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তায় পেশাদারিত্বের আহ্বান মহাপরিচালকের
১১

গাজীপুরের সফিপুরে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে ৬০ দিনব্যাপী অঙ্গীভূত আনসার মৌলিক প্রশিক্ষণ-২০২৬-এর সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী সদস্যদের সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি নবীন আনসার সদস্যদের সালাম ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। পরে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন শেষে দেওয়া বক্তব্যে দেশের অর্থনীতি, শিল্পকারখানা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তায় অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন তিনি।

মহাপরিচালক বলেন, দেশের পাঁচ হাজারের বেশি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ৫৫ হাজারের বেশি অঙ্গীভূত আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারে ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বিত প্রশিক্ষণ ও কার্যক্রম আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

দায়িত্ব পালনকালে সরকারি সম্পদ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে যেসব আনসার সদস্য ত্যাগ স্বীকার ও আহত হয়েছেন, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। দেশের বিভিন্ন স্থানে দুষ্কৃতকারীদের অপতৎপরতা প্রতিরোধ এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আনসার সদস্যদের সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন মহাপরিচালক।

অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন দাবির প্রসঙ্গে তিনি জানান, তাদের বেতন বৃদ্ধির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ইতোমধ্যে রেস্ট প্রথা বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি আবাসন সুবিধার উন্নয়ন, নিজ বিভাগে বদলির সুযোগ এবং রেশন ব্যবস্থার মান ও পরিমাণ বৃদ্ধিসহ সদস্যদের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বাহিনীর সংস্কার ও সদস্যকল্যাণে নেওয়া উদ্যোগগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মোতায়েনের ফলে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের ভূমিকা আরও বাড়বে।

প্রশিক্ষণের বিষয়ে মহাপরিচালক বলেন, বর্তমান সময়ের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় প্রশিক্ষণকে আরও যুগোপযোগী করা হয়েছে। প্রশিক্ষণে শারীরিক সক্ষমতা, সাধারণ ও অস্ত্র প্রশিক্ষণ, নিরাপত্তা পদ্ধতি, ইনসিডেন্ট ম্যানেজমেন্ট, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং আইন ও বিধিবিধানসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আনসার সদস্য হিসেবে পরিচয় যেমন গৌরবের, তেমনি জনগণ ও রাষ্ট্রের প্রতি এটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে সততা, শৃঙ্খলা, নিরপেক্ষতা ও মানবিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

৬ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া ৬০ দিনের এ প্রশিক্ষণে অনুমোদিত ৬৯২ জন প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে ৬৫৪ জন অংশ নেন। তাদের মধ্যে ৬২৭ জন সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন।
প্রশিক্ষণে ফায়ারে প্রথম হন কুমিল্লার কাজী মো. আবু সাঈদ, ড্রিলে প্রথম হন নোয়াখালীর মো. ফিজুর রহমান এবং সেরা প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচিত হন খাগড়াছড়ির মো. সাবিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে মহাপরিচালক তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

কুচকাওয়াজের পর তুরস্কের জেন্ডারমেরি দলের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আওতায় দাঙ্গা প্রতিরোধ ও নিরাপত্তাবিষয়ক একটি মহড়া প্রদর্শন করা হয়। এ সময় মহাপরিচালক বলেন, দাঙ্গা, বিশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আনসার ব্যাটালিয়ন, আনসার গার্ড ব্যাটালিয়ন ও অঙ্গীভূত আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত। সম্প্রতি গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন মোকাবিলাতেও বাহিনীর সক্ষমতার প্রতিফলন ঘটেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশীদ, আনসার ও ভিডিপি একাডেমির কমান্ড্যান্ট মো. সাইফুল্লাহ রাসেল, তুরস্কের প্রশিক্ষণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষকসহ বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।