দুর্গম পাহাড়ে ক্যান্সার রোগীকে নতুন জীবন দিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ২৬ ইসিবি,চিকিৎসা শেষে ফিরলেন সুস্থ জীবনে

মোঃ সুমন খান রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৭ অপরাহ্ণ
দুর্গম পাহাড়ে ক্যান্সার রোগীকে নতুন জীবন দিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ২৬ ইসিবি,চিকিৎসা শেষে ফিরলেন সুস্থ জীবনে
২১

দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে সড়ক যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মানবিক সহায়তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৬ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন (২৬ ইসিবি)। অর্থাভাবে চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাওয়া ক্যান্সার আক্রান্ত এক পাহাড়ি ব্যক্তির পাশে দাঁড়িয়ে তাকে ফিরিয়ে দিয়েছে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে বেঁচে থাকার স্বপ্ন।

ঘটনাটি রাঙ্গামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার দুর্গম থুমপাড়া এলাকার। ওই এলাকার বাসিন্দা অমরধন চাকমা দীর্ঘদিন ধরে মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছিলেন। পরিবারের সামর্থ্য অনুযায়ী কিছুদিন চিকিৎসা চালিয়ে গেলেও একপর্যায়ে অর্থের অভাবে বন্ধ হয়ে যায় তার চিকিৎসা। প্রিয়জনের চিকিৎসা করাতে না পেরে দিশেহারা হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। স্বজনদের কান্না ও অসহায়ত্ব ছড়িয়ে পড়ে প্রতিবেশীদের মাঝেও।

একপর্যায়ে স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি পৌঁছে যায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৬ ইসিবির কাছে। খবর পেয়ে মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে দ্রুত অসুস্থ অমরধন চাকমার খোঁজখবর নিতে এগিয়ে আসে সেনাবাহিনী। সরেজমিনে তার শারীরিক অবস্থা ও পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার বিষয়টি জানার পর ২৬ ইসিবির অধিনায়ক তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য অমরধন চাকমাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ)-এ পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। শুধু চিকিৎসার ব্যবস্থাই নয়, তার জটিল ও ব্যয়বহুল চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয়ভারও বহন করে ২৬ ইসিবি।

সেনাবাহিনীর সার্বিক সহযোগিতা, চিকিৎসা ও পরিচর্যায় অমরধন চাকমা বর্তমানে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। দীর্ঘদিনের অসুস্থতা কাটিয়ে তিনি এখন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন। যে পরিবারটি একসময় প্রিয়জনকে হারানোর আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছিল, সেই পরিবারে ফিরে এসেছে স্বস্তি ও আনন্দ।

সেনাবাহিনীর এমন মানবিক সহযোগিতায় আবেগাপ্লুত অমরধন চাকমা ও তার স্ত্রী। তারা বলেন, “যখন বাঁচার আশা প্রায় ছেড়ে দিয়েছিলাম, তখন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। তাদের সহযোগিতা না পেলে হয়তো আজকের এই দিনটি দেখা হতো না। এই ঋণ কখনো শোধ হওয়ার নয়।”

তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং ২৬ ইসিবির অধিনায়কসহ সংশ্লিষ্ট সকল সদস্যের প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

দুর্গম পাহাড়ি জনপদে সেনাবাহিনীর এমন মানবিক উদ্যোগ শুধু একজন অসুস্থ মানুষের জীবনেই আশার আলো জ্বালায়নি, বরং স্থানীয় মানুষের মধ্যেও সৃষ্টি করেছে আস্থা, ভালোবাসা ও সহমর্মিতার নতুন বন্ধন।

উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোই যে প্রকৃত মানবিকতার পরিচয়, অমরধন চাকমার জীবনে ফিরে আসা সুস্থতা তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।