বোর্ডবাজার কওমি মাদ্রাসায় শিশু যৌ/ন নির্যাতন: শিক্ষক ও পরিচালক গ্রেপ্তার ২
গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানাধীন বোর্ডবাজার কলমেশ্বর এলাকার একটি কওমি মাদ্রাসায় আবাসিক বিভাগে পড়ুয়া শিশুদের ওপর দীর্ঘদিনের মানসিক ও শারীরিক যৌন নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। দারুল হেদায়া কওমি মাদ্রাসার অন্তত ছয়জন কোমলমতি শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে যৌন নির্যাতন করার অভিযোগে শিক্ষক এবং ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে মাদ্রাসার পরিচালককে গ্রেপ্তার করেছে গাছা থানা পুলিশ। একই সঙ্গে মামলার এজাহারে অভিযুক্ত শিক্ষকের পিতার নামও উল্লেখ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরপরই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হয়।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে দারুল হেদায়া কওমি মাদ্রাসার সাত বছর বয়সী এক আবাসিক শিক্ষার্থীর মাধ্যমে। মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০, ১১ এবং ১২ অক্টোবর বিভিন্ন সময়ে ওই শিশুকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নানা প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার যৌন নির্যাতন করেন অভিযুক্ত শিক্ষক মো. অলিউল্লাহ ইসলাম (২৩)। নির্যাতনের ধকল সামলাতে না পেরে শিশুটি হঠাৎ চরম অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে পুরো বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের কাছে বিস্তারিত খুলে বলে। শিশুর মুখে এমন লোমহর্ষক বর্ণনা শুনে অভিভাবকরা হতবাক হয়ে যান এবং তাত্ক্ষণিকভাবে মাদ্রাসার অন্যান্য আবাসিক শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেন।
পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা মাদ্রাসার আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানতে পারেন যে, অভিযুক্ত শিক্ষকের অনৈতিক লালসার শিকার হয়েছে সেখানে থাকা আরও অন্তত পাঁচ শিশু। বিষয়টি নিয়ে সর্বত্র চরম তোলপাড় শুরু হলে দারুল হেদায়া কওমি মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদ ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তত্পর হয়ে ওঠেন। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার সার্বিক বিষয় প্রকাশ্যে আসার পর মাদ্রাসার পরিচালক মোহাম্মদ মিজান এবং স্থানীয় মো. আব্দুল কুদ্দুস শেখ কোনোপ্রকার আইনি সহযোগিতা করা তো দূরের কথা, উল্টো ভুক্তভোগীদের পরিবারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে নীরব রাখার চেষ্টা চালান।
মাদ্রাসার অন্দরে চলা এই ধরনের স্পর্শকাতর ও গর্হিত অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার হুমকিতেও দমে না গিয়ে ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার সরাসরি গাছা থানায় উপস্থিত হয়ে এক লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। পুলিশ বিষয়ের গুরুত্ব অনুধাবন করে অভিযোগটিকে নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণ করে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা এ মামলায় মূল অভিযুক্ত শিক্ষক মো. অলিউল্লাহ ইসলাম (২৩), মাদ্রাসার পরিচালক মোহাম্মদ মিজান (৩৮) এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের পিতা মো. আব্দুল কুদ্দুস শেখ (৪২)-কে আসামি করা হয়। মামলা দায়েরের পরপরই গাছা থানা পুলিশ দ্রুগ গতিতে অভিযান চালিয়ে ঘটনার প্রধান আসামি শিক্ষক অলিউল্লাহ ও ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অপরাধে পরিচালক মিজানকে গ্রেপ্তার করতে সমর্থ হয়।
একটি পবিত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আবাসন ব্যবস্থায় কোমলমতি শিশুদের সাথে ঘটে যাওয়া এমন নৃশংস ঘটনায় পুরো এলাকা জুড়ে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, শিশুদের অভিভাবকরা যে ভরসায় তাদের সন্তানদের প্রিয় প্রতিষ্ঠানে পাঠান, সেখানে এমন জঘন্য কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা দ্রুত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের কঠোর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান। শিশুদের পরিচয় ও ব্যক্তিগত সুরক্ষা বজায় রেখে পুলিশি তদন্তের মধ্য দিয়ে এই ঘটনার পেছনের সমস্ত সত্য বের হয়ে আসবে বলে প্রত্যাশা সবার। মামলার বিস্তারিত ও পুলিশের আইনি পদক্ষেপ জানুন দৈনিক নবাবানীতে।

