ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ২৪ সিসিটিভির ১৭টিই অচল, নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে স্থাপিত ২৪টি সিসিটিভি ক্যামেরার মধ্যে ১৭টিই অচল বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের মেকানিকের দায়িত্বে থাকা তাফসির। দীর্ঘদিন ধরে ক্যামেরাগুলো অচল থাকায় হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রতন কুমার ঢালীর বক্তব্যের সঙ্গে মেকানিকের তথ্যের গরমিল পাওয়া গেছে।
হাসপাতালটিতে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। রোগী ও তাঁদের স্বজনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধ এবং অনিয়ম শনাক্তে সিসিটিভি ক্যামেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু অধিকাংশ ক্যামেরা অচল থাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা কতটা কার্যকর, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
হাসপাতালের মেকানিকের দায়িত্বে থাকা তাফসির জানান, হাসপাতালে মোট ২৪টি সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি প্রায় দেড় বছর আগে অকেজো হয়ে যায়। বাকি ২১টির মধ্যে বর্তমানে মাত্র সাতটি সচল রয়েছে। অর্থাৎ, মোট ২৪টি ক্যামেরার মধ্যে ১৭টিই এখন অচল।
তাফসির আরও জানান, ক্যামেরাগুলো অচল থাকার বিষয়টি তিনি অনেক আগেই হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে জানিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত সমস্যার সমাধান হয়নি।
তাঁর দাবি, সম্প্রতি হাসপাতাল থেকে একটি নবজাতক চুরির ঘটনা ঘটে। তখন সচল সাতটি ক্যামেরার একটিতে চুরির ঘটনার ফুটেজ পাওয়া যায়। তাঁর ভাষ্য, অধিকাংশ ক্যামেরা অচল থাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রতন কুমার ঢালী দাবি করেন, ২৪টি ক্যামেরার মধ্যে মাত্র তিনটি অচল। সেগুলো সংস্কারের জন্য গণপূর্ত বিভাগে আবেদন করা হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যকেও অবহিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি। জেলা পরিষদ আর্থিক সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলেও পরে আর সহায়তা দেয়নি বলেও দাবি করেন তত্ত্বাবধায়ক।
এদিকে, হাসপাতালটিতে চুরি-ছিনতাই, দালালদের দৌরাত্ম্য, ওষুধ বিতরণে অনিয়ম এবং চিকিৎসক ও কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ দীর্ঘদিনের বলে দাবি করেছেন সচেতন নাগরিকদের কেউ কেউ। তাঁদের অভিযোগ, এসব সমস্যা প্রতিরোধে কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সচেতন নাগরিকদের মতে, জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই হাসপাতালে রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অচল সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো দ্রুত সচল করা জরুরি। পাশাপাশি ক্যামেরাগুলো কত দিন ধরে অচল, এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা কখন অবহিত হয়েছেন এবং মেরামতের উদ্যোগ নিতে বিলম্ব কেন হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চুরি, ছিনতাই, দালালদের দৌরাত্ম্য, ঘুষ-বাণিজ্যসহ নানা অনিয়ম ও অপকর্মের ঘটনা ঘটছে। অভিযোগ রয়েছে, ওষুধ বিতরণে অনিয়ম, দায়িত্ব পালনকালে চিকিৎসকদের বেসরকারি হাসপাতালে চেম্বার করা, অর্থ ছাড়া নার্সদের কাছ থেকে যথাযথ সেবা না পাওয়া এবং মর্গে লাশ হস্তান্তরেও অর্থ দাবির মতো ঘটনা রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে।
নাগরিকদের প্রশ্ন, হাসপাতালের অভ্যন্তরে এত অভিযোগ ও অনিয়মের পরও এসব বিষয়ে কার্যকর নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা কতটা নেওয়া হচ্ছে? তাদের অভিযোগ, হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনায় কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে দালালচক্রের প্রভাব বাড়ছে এবং সেবাপ্রত্যাশীরা কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রতন কুমার ঢালীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন কেউ কেউ। গুরুত্বপূর্ণ এই সরকারি হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা, অনিয়ম প্রতিরোধ এবং রোগীদের নিরাপদ ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে তাঁর দায়িত্বশীলতা ও কার্যকর ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করছেন সচেতন নাগরিকদের একটি অংশ। তাঁদের মতে, হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতির উন্নয়নে নিয়মিত তদারকি, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। তা নাহলে হাসপাতালের নিয়ন্ত্রণ চলে যাবে দালালদের খপ্পরে।

