মহানবীকে কটূক্তি করা শ্রীলঙ্কান যুবকের মৃত্যুদণ্ড বাতিল করল সৌদি আদালত
ফেসবুকে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে শ্রীলঙ্কার এক যুবককে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল করেছে সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার (১৪ অক্টোবর) শ্রীলঙ্কার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী অরুন হেমাচন্দ্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে নতুন করে ওই যুবককে কী শাস্তি দেওয়া হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
অঞ্জন শিবারাসা নামের ওই যুবককে গত জুলাইয়ে সৌদি আরবের পুলিশ গ্রেপ্তার করে। ফেসবুকে মহানবীকে নিয়ে তাঁর করা মন্তব্যের স্ক্রিনশট তাঁর চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর পর তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, হিন্দুদের একটি মিছিলে এক মুসলিম ব্যক্তির কুকুরকে লাথি মারার দৃশ্যসংবলিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওর মন্তব্যের ঘরে এক ব্যক্তি হিন্দু দেবীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এর জবাবে অঞ্জন শিবারাসা তামিল ভাষায় মহানবীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
পরে তিনি মন্তব্যটি মুছে ফেললেও এর আগেই কেউ সেটির স্ক্রিনশট নিয়ে রাখেন। ওই স্ক্রিনশট তাঁর চাকরিদাতার কাছে পাঠানো হলে প্রতিষ্ঠানটি সৌদি কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানায়। এরপর পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে এবং তাঁর মোবাইল ফোন জব্দ করে।
প্রথমে সৌদি আরবের আল-আহসার একটি আদালত তাঁকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানা করেন। পরে গত ১৭ সেপ্টেম্বর সৌদি প্রসিকিউটররা ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। তাঁরা মামলাটি সাইবার অপরাধ আইনের পরিবর্তে শরিয়াহ আইন অনুযায়ী বিচারের আবেদন জানান। পরবর্তী সময়ে আপিল আদালত তাঁর সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড দেন।
মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর অঞ্জনের মা ছেলের প্রাণভিক্ষা চান। পাশাপাশি শ্রীলঙ্কা সরকারও তাঁর সাজা কমানোর জন্য সৌদি সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার করে। এসব প্রচেষ্টার মধ্যে সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্ট মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল করেছে।
অঞ্জন শিবারাসার পক্ষে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করা শ্রীলঙ্কার আইনজীবী ফাইজার মুস্তাফাও বিবিসি সিংহলাকে মৃত্যুদণ্ডের রায় পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী সিদ্ধান্তে তাঁর জন্য কী শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে, তা জানার চেষ্টা চলছে।
[ সূত্র: বিবিসি ]

