শেখ হাসিনা সড়কে বখাটেদের উৎপাত, ইভটিজিং এর শিকার নারীরা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা সদর থেকে বিজয়নগর উপজেলার সিমনা পর্যন্ত ৯.২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘শেখ হাসিনা সড়ক’। প্রায় ৩৫ কিলোমিটারের দূরত্ব কমিয়ে এই সড়ক বিজয়নগর উপজেলার মানুষের যাতায়াত দুর্ভোগ দূর করেছে। এ সড়ক শুধু যে শহরের সঙ্গে দূরত্ব কমিয়েছে তা নয় বরং ভূমিকা রাখবে জেলার শিক্ষা, কৃষি ও অর্থনীতিতেও।
অন্যদিকে নদী আর বিলের বুকে নির্মিত এই সড়ক ভ্রমণপিপাসু মানুষের কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছে। খাল-বিল, নদী-হাওরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিনিয়ত ভিড় করেন অসংখ্য মানুষ। যাদের মধ্যে রয়েছে উটটি বয়সের তরুণ তরুণী থেকে শুরু করে ৭০ বছরের বৃদ্ধ মানুষেরাও। আছে ইস্কুল কলেজে পড়ুয়া ছাত্র ছাত্রীরাও তবে পর্যটকদের মধ্যে নারীদের সংখ্যায় বেশি। দৃষ্টিনন্দন এ সড়কটি ইতিমধ্যেই জেলার অন্যতম দর্শনীয় স্থান হয়ে উঠেছে।
তবে এই সড়কটি হওয়ার কারণে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছে পত্তন, সিঙ্গারবিল, চম্পকনগর, বিষ্ণুপুর ও পাহাড়পুর ইউনিয়নের জনগণের। বর্ষাকালে হাওর পাড়ি দিয়ে জেলা শহরে আসতে তাদের একমাত্র ভরসা ছিল নৌকা, আর শুষ্ক মৌসুমে পায়ে হাঁটা।
তবে সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে সড়কটি যেখানে পর্যটকদের জন্য নিরাপদ ও যোগ উপযোগী হওয়ার কথা, সেখানে এখন পর্যটকদের জন্য বিশেষ করে মহিলাদের জন্য খুবই অনিরাপদ হয়ে উঠেছে শেখ হাসিনা সড়ক। এখানে ইস্কুল কলেজে পড়ুয়া মেয়েদের থেকে শুরু করে মধ্যবয়সী নারীরা পর্যন্ত প্রতিদিন ইভটিজিং এর মত হয়রানি শিকার হচ্ছেন বখাটেদের হাতে। তাই ইভটিজিং বন্ধে প্রশাসনের কঠোর দৃষ্টি আকর্ষণের আকুল আবেদন আকুল আবেদন আছেন ওরা।
প্রতিদিনই শেখ হাসিনা সড়কে যাতায়াতকারী স্কুল, কলেজ ও বিদ্যালয়ের ছাত্রী সহ সাধারণ নারীরা প্রতিনিয়ত বখাটেদের হাতে ইভটিজিং ও নানান ধরনের যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। একটি আধুনিক সড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যেখানে সুদৃঢ় থাকার কথা, সেখানে নিয়মিতই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হচ্ছে পথচারী নারীদের।
এভাবে চলতে থাকলে মেয়েদের স্বাভাবিক চলাফেরা ও পড়াশোনা চরম হুমকির মুখে পড়বে। সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে এই এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং বখাটেদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ ও সুদৃষ্টি আকর্ষণ করছেন পথচারী ও পর্যটন পিপাসুরা।

