পরকীয়া সম্পর্কে আপত্তি করায় যুবককে সংঘবদ্ধ হামলা, প্রা/ণ/নাশের হুমকির অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫২ অপরাহ্ণ
পরকীয়া সম্পর্কে আপত্তি করায় যুবককে সংঘবদ্ধ হামলা, প্রা/ণ/নাশের হুমকির অভিযোগ
৮২

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের চান্দুমিয়াপাড়ায় পারিবারিক বিরোধ ও পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তানভীর রশীদ নামে এক যুবককে সংঘবদ্ধভাবে হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানেও তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

ভুক্তভোগী তানভীর রশীদের অভিযোগ, রিমন রশীদ (২৬) তার আপন ছোট ভাই এবং শিউলি বেগম (৩০) তার বড় ভাই সাব্বির রশীদের স্ত্রী। বড় ভাই প্রবাসে থাকার সুযোগে শিউলি বেগমের সঙ্গে রিমন রশীদের অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে বলে দাবি করেন তিনি।

তানভীর রশীদ বলেন, বিষয়টি কয়েকদিন তার নিজের চোখে পড়ার পর পরিবারের অন্য সদস্যদের অবহিত করেন। পাশাপাশি রিমন রশীদকে বিয়ে করানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তার। বরং সময়ের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি একটি কাঁঠাল পাড়াকে কেন্দ্র করে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় শিউলি বেগম ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করছিলেন। একপর্যায়ে তার ক্যামেরা বন্ধ করার জন্য তানভীর এগিয়ে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

তানভীর রশীদের অভিযোগ, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিউলি বেগম, তার মা মনোয়ারা বেগম (৪৫), অজুফা বেগম (৩৮), রিমন রশীদ (২৬) ও জনাব আলী (৭০) তার ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালান। হামলায় তার মাথা, হাত, কাঁধসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে এবং রক্তপাত হয়।
পরে তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় রেফার করা হয়। তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় ঢাকায় না গিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল হাসপাতালে জরুরি বিভাগে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন বলে জানান তিনি।

এদিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছমা বেগম (৪২), স্বামী—সোলাইমানের বিরুদ্ধেও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন তানভীর রশীদ।
তার অভিযোগ, আছমা বেগম শাহবাজপুরের বাসিন্দা হলেও বর্তমানে শহরে বসবাস করেন। ঘটনার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছমা বেগম কয়েকজন যুবককে সঙ্গে নিয়ে সেখানে আসেন। তারা তাকে ভয়ভীতি দেখান এবং বিষয়টি নিয়ে থানায় বা আদালতে মামলা না করার জন্য চাপ দেন। এ সময় তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তানভীর।

তানভীর রশীদ বলেন, বিষয়টি পারিবারিক হওয়ায় সামাজিক মর্যাদার কথা বিবেচনা করে এতদিন তিনি প্রকাশ্যে কোনো অভিযোগ করেননি। কিন্তু হামলা ও হুমকির ঘটনায় এখন তিনি আইনের আশ্রয় নিয়েছেন। এ ঘটনায় সরাইল থানায় ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩০৭/৩২৬/৩৫৪/৩৭৯/৫০৬ ধারায় একটি মামলা চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি যার মামলার নম্বর ৩২।

এ ছাড়া হামলার পর থেকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়ানোর ভয় দেখিয়ে ও নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে তাকে ও তার পরিবারকে বাড়ি থেকে দূরে সরিয়ে রাখার অভিযোগও করেছেন তানভীর রশীদ। একই সঙ্গে তাদের বাড়িতে লুটপাটের অভিযোগও করেন তিনি।

তানভীর রশীদ নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিউলি বেগম, রিমন রশীদ, মনোয়ারা বেগম, অজুফা বেগম, জনাব আলী ও আছমা বেগমের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।