বগুড়ার ধুনটে যমুনা নদীর শহড়াবাড়ী স্পারে ভয়াবহ ধস: ৫০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন, হুমকির মুখে ১০ গ্রাম ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ
বগুড়ার ধুনটে যমুনা নদীর শহড়াবাড়ী স্পারের মাথায় আবারও দেখা দিয়েছে । রোববার দুপুর থেকে প্রায় ৫০ মিটার অংশ যমুনায় বিলিন হয়ে গেছে।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে রাক্ষসি যমুনা নদী। ভয়াবহ ভাঙ্গনের কবলে পড়ে ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের বৈশাখী, রাঁধানগর, বথুয়ারভিটা, নিউসারিয়াকান্দি,আটারচর পুকুরিয়া, ভুতবাড়ি, কৈয়াগাড়ি ,বানিয়াজান , শিমুলবাড়ি,শহড়াবাড়ীসহ প্রায় ১০টি গ্রাম ধুনট উপজেলার মানচিত্র থেকে অনেক আগেই বিলিন হয়ে গেছে। এসব গ্রামের মানুষ দফা দফায় ভাঙ্গনের শিকার হয়ে জমিজমা, বসতভিটা, ঘরবাড়ি হারিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন বন্যা বাঁধে।
এ অবস্থায় বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে ২০০৩ সালে যুমনা নদীর ভাঙ্গনরোধে শহড়াবাড়ী গ্রামের নিকট ৩ কোটি টাকা ব্যায়ে নদীর আড়াআড়িভাবে ১ হাজার ১০০ মিটার দৈঘ্য একটি স্পান নির্মাণ করা হয়েছে। নির্মাণের পর বিভিন্ন সময়দ দফায় দফায় স্পারের সামনের অংশ টুকু আগেই ভেঙ্গে নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে।
এ অবস্থায় গত কিছুদিন ধরে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানির বেড়ে প্রবল ¯্রােতে যমুনা নদীর শহড়াবাড়ি স্পারের মাথায় দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ভাঙ্গন। রোববার দুপুর ১টার পর থেকে স্পারের সামনের অংশ ৫০ মিটার ধসে নদীর পানিতে বিলীন হয়ে গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ এর আগে দুই দফা ভাঙ্গন দেখা দিলে বগুড়ার পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্বাবধায়নে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙ্গন রোধের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু রোববার দুপুরের পর থেকে ভাঙ্গন শুরু হয়।ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, স্পারের ভাঙ্গন প্রতিরোধ করা না গেলে বাঁধের পিছনের অংশ ভেঙ্গে বিলিন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে বাঁধে আশ্রিত পরিবারের বসতভিটাসহ বাড়িঘর হারিয়ে নিঃশ^ হয়ে যাবে। দুপুরের পর থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু তারা এখন পর্যন্ত ঘটনাস্থলে আসেন নাই এবং কোন ব্যবস্থা গ্রহন করছে না।বগুড়ার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মালেক বলেন, রোববার দুপুর থেকে পর্যন্ত স্পারের সামনে ৫০ মিটার অংশ পানিতে ধসে গেছে। উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে আগামী কাল থেকে ক্ষতিগ্রস্থ স্পারের অংশে জিও টিউব ও জিও টেক্সট ব্যাগ ফেলে ভাঙ্গনরোদের চেষ্টা চলছে।

