সৈয়দপুরে প্রশাসনকে জানিয়েও থামল না বাল্যবিয়ে, চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী এখন স্বামীর সংসারে
উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও) মরিয়ম নেছা বলেন, তিনি বিষয়টি ঝরে পড়ার রিপোর্ট হিসেবে কর্তৃপক্ষকে জানাবেন। তবে এ বিষয়ে আর খোঁজ নেওয়ার প্রয়োজন মনে করছেন না বলেও জানান তিনি।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নুরুন্নাহার শাহাজাদী বলেন, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে তাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং বিদ্যালয়ে সচেতনতামূলক সেমিনারও করা হয়েছে। বাল্যবিয়ের খবর পেলে প্রশাসনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর তাদের করার কিছু নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাব্বির হোসেন বলেন, বাল্যবিয়ের খবর পাওয়ার পর ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ ও ইউপি সদস্যকে মেয়েটির নানির বাড়িতে পাঠানো হয়েছিল। তারা সেখানে বিয়ের কোনো আয়োজন পাননি। পরে যদি বিয়ে হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি নিয়মিত মামলার মাধ্যমে পুলিশ প্রশাসনের দেখার বিষয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাল্যবিয়ের খবর প্রশাসনকে আগেই জানানো হয়েছিল এবং বিয়ে বন্ধে প্রতিনিধিও পাঠানো হয়েছিল। এরপরও কীভাবে মাত্র ১৩ বছর বয়সী একজন চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীর বিয়ে সম্পন্ন হলো—এ প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে।
সচেতন মহলের মতে, বাল্যবিয়ে শুধু একটি শিশুর শৈশব কেড়ে নেয় না; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে তার শিক্ষাজীবন, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ। প্রশাসনকে অবহিত করার পরও যদি এমন বিয়ে ঠেকানো না যায়, তাহলে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম কতটা কার্যকর—সেটিও নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।


