ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার ১

সাটুরিয়ায় দুই শিক্ষার্থীর বাল্যবিবাহের ঘটনায় চাঞ্চল্য

মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ণ
সাটুরিয়ায় দুই শিক্ষার্থীর বাল্যবিবাহের ঘটনায় চাঞ্চল্য
৭৯

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় বরাইদ-ছনকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থীর বাল্যবিবাহের ঘটনা সামনে এসেছে। পরে ছাত্রীর পরিবারের করা ধর্ষণ মামলায় ওই ছাত্রকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়টির দুটি ক্যাম্পাস নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের বিয়ে নিয়েও এলাকায় উদ্বেগ রয়েছে। কখনো অভিভাবকদের উদ্যোগে, আবার কখনো নিজেদের পছন্দে পালিয়ে বিয়ের ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। এসব বিয়ের অনেকগুলোর পরিণতি বিচ্ছেদে গড়ায় বলেও দাবি করা হয়েছে।

 

সম্প্রতি মামুদনগর ইউনিয়নের মহেরা-কাউয়াখোলা গ্রামের ১৪ বছর বয়সী নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে বয়সে বড় এক ব্যক্তির বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন তার মা ও প্রবাসী বাবা। তবে ওই ছাত্রী এতে রাজি হয়নি। কয়েকদিন পর পরিবারের পক্ষ থেকে আরও দুটি বিয়ের প্রস্তাব আনা হয় বলে জানা গেছে।

 

একপর্যায়ে প্রায় আড়াই মাস আগে ওই ছাত্রী একই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এক ছাত্রকে বিয়ে করে ঢাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে সংসার শুরু করে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

 

পরে বিষয়টি জানতে পেরে মেয়েকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন তার মা। এতে ব্যর্থ হয়ে তিনি নাগরপুর থানায় ওই ছাত্রের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে পাঠায়।

 

ছাত্রীর মায়ের অভিযোগ, তাঁর অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে ওই ছাত্রের পরিবার প্রভাবিত করে ক্ষতি করেছে। তবে ছাত্রীটি দাবি করেছে, সে স্বেচ্ছায় ওই ছাত্রকে বিয়ে করেছে এবং বর্তমানে শ্বশুরবাড়িতে রয়েছে। একই সঙ্গে সে ওই ছাত্রের মুক্তি দাবি করেছে।

 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নাগরপুর থানার এসআই ফারুক হোসেন বলেন, অভিযুক্ত ছাত্রকে ঢাকার গাবতলী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে আইনি প্রক্রিয়া শেষে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ছনকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ও বরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল মজিদ বিদ্যালয়ের সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে উভয় পরিবারকে আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।