বিদ্যাদানে ‘এম বোরহান উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের’ কয়েক দশকের গৌরবগাথা

মোহাম্মদ নজরুল ইমলাম, সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৫৮ অপরাহ্ণ
বিদ্যাদানে ‘এম বোরহান উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের’ কয়েক দশকের গৌরবগাথা
১১৩

টাঙ্গাইল জেলার শিক্ষা বিস্তারের অন্যতম পুরোনো প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ‘এম বোরহান উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়’। নাগরপুর উপজেলার আগ-দিঘলীয়া গ্রামে ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়টি টাঙ্গাইল ও মানিকগঞ্জ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।

 

বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী মোঃ বোরহান উদ্দিনের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি একাধিকবার জেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ হিসেবে সম্মানজনক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে। পাশাপাশি আন্তঃজেলা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, খেলাধুলা ও নানা ধরনের মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতায়ও বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা অনবদ্য ভূমিকা রেখে চলেছে।

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, ধলেশ্বরী নদীর পূর্বপাড় ঘেঁষে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে মনোরম পরিবেশে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বিদ্যালয়টি। পূর্ব-পশ্চিমে লম্বালম্বিভাবে নির্মিত কয়েকটি ভবন, টিনশেড ঘর এবং সামনে বিস্তীর্ণ খেলার মাঠকে ঘিরে চারপাশে নির্মিত সুউচ্চ সীমানাপ্রাচীর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও নিশ্চিত করছে।

 

বিদ্যালয়ের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের মাঝামাঝি রয়েছে প্রবেশের একমাত্র ফটক। ফটকের সামনে বাংলায় স্পষ্ট অক্ষরে লেখা রয়েছে—‘এম বোরহান উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়, নাগরপুর-টাঙ্গাইল’। বিদ্যালয়ের সীমানার ভেতরের বিস্তীর্ণ খোলা মাঠে কয়েক হাজার ছেলে-মেয়ের প্রাণচঞ্চল উপস্থিতি ও কলতান এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশের সৃষ্টি করেছে।

 

বিদ্যালয়ের ১৮ জন শিক্ষক-কর্মচারী শিক্ষাদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে ব্যস্ত সময় পার করছেন। শিক্ষকদের নীতি-নৈতিকতা ও জ্ঞানগর্ভ আলোচনার সুফল শিক্ষার্থীদের সুশৃঙ্খল চলাফেরা ও আচরণে প্রতিফলিত হচ্ছে। সব মিলিয়ে বিদ্যালয়জুড়ে একটি মনোরম ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ বিরাজ করছে।

 

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মজিবুর রহমান জানান, তাদের স্কুলটি উপজেলার অন্যতম সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দক্ষ শিক্ষকমণ্ডলীর কৌশলী শিক্ষা প্রদান, আদর-স্নেহ ও আন্তরিক মনোভাব শিক্ষার্থীদের শিক্ষা গ্রহণ এবং আনন্দের সঙ্গে পড়াশোনায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। একই সঙ্গে স্কুল পরিচালনা কমিটি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও বিদ্যালয়ের বিষয়ে অত্যন্ত সজাগ দৃষ্টি রাখছেন।

 

তিনি আরও জানান, বিশেষ করে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিদ্যালয়ে একটি শক্তিশালী অ্যালামনাই কমিটি রয়েছে। বিদ্যালয়-সম্পর্কিত যেকোনো সমস্যায় তাদের সহযোগিতা সত্যিকার অর্থেই প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে এ বিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে অনেক শিক্ষার্থী ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, অধ্যাপক ও সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। সব মিলিয়ে বিদ্যালয়টিকে একটি আদর্শ ও শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ বলা যায়।

 

প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, দুই জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় বিদ্যালয়টি অবস্থিত হওয়ায় এখানকার রাস্তাঘাট তেমন ভালো নয়। এ ছাড়া ধলেশ্বরী নদীর তীব্র ভাঙনের কারণে বিদ্যালয়টি নিয়েও তারা শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন। বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।