সোনারগাঁওয়ে নীতিমালা তোয়াক্কা না করে টিসিবি ডিলার নিয়োগের অভিযোগ, তদন্ত কর্মকর্তা ও স্বজনপ্রীতির ভূমিকা নিয়ে এলাকায় তোলপাড়

নারায়ণগঞ্জ (সোনারগাও) প্রতিনিধি: প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৩ অপরাহ্ণ
সোনারগাঁওয়ে নীতিমালা তোয়াক্কা না করে টিসিবি ডিলার নিয়োগের অভিযোগ, তদন্ত কর্মকর্তা ও স্বজনপ্রীতির ভূমিকা নিয়ে এলাকায় তোলপাড়
৫৪

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর ডিলার নিয়োগে সরকারের নির্ধারিত নীতিমালা উপেক্ষা ও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বারদী ও কাঁচপুর ইউনিয়নে প্রকৃত মুদি ব্যবসায়ীদের বাদ দিয়ে পছন্দের আবেদনকারীদের নামে সুপারিশ পাঠানোর দায়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

​অনিয়মের এ তীর উঠেছে সোনারগাঁও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী শাহিন আলম এবং স্থানীয় প্রভাবশালী বলয়ের দিকে। ইতোমধ্যে ডিলার বাছাইয়ের এ বিতর্কিত তদন্ত প্রতিবেদন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।
​
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, টিসিবির পণ্য বিক্রির ডিলারশিপ পেতে কাঁচপুর ও বারদী ইউনিয়ন থেকে মোট ৯ জন ব্যবসায়ী আবেদন করেন। নিয়ম অনুযায়ী আবেদনকারী প্রকৃত মুদি ব্যবসায়ী কি না, হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে কি না, দোকানে ১০ মেট্রিক টন পণ্য ধারণের সক্ষমতা আছে কি না এবং তিনি কোনো সরকারি/স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কি না—এসব যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

​উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসিফ আল জিনাত এই দায়িত্ব দেন জনস্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী শাহিন আলমকে। শাহিন আলম তদন্ত শেষে গত ৬ আগস্ট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রতিবেদন পাঠান। প্রতিবেদনে ‘জান্নাতুল স্টোর’ ও ‘ফাহিমা এন্টারপ্রাইজ’কে ডিলার হিসেবে যোগ্য ঘোষণা করে সুপারিশ করা হয়।সরেজমিনে দোকানে মুদি পণ্যের কোনো অস্তিত্ব মেলেনি।

অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম এবং নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) সেলিম হোসেন দিপুর ক্ষমতার দাপটে নীতিমালা ভঙ্গ করে এই সুপারিশ করা হয়েছে। জান্নাতুল স্টোরের মালিক জামাল হোসেন এমপি’র পিএস দিপুর ভাই এবং ফাহিমা আক্তার তাঁর নিকটাত্মীয় (ভাগ্নি)।

সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসিফ আল জিনাত জানান, ৯ জন আবেদনকারীর তথ্য যাচাই-বাছাই করেই প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। তবে কাউকেই সুনির্দিষ্টভাবে ডিলার হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে কি না, তা তিনি জানেন না বলে দাবি করেন। তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।