রাঙামাটি জেলা পরিষদের নেতৃত্ব বদলের সুবাতাস: মনীষ দেওয়ানকে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চায় বরকলবাসী

স্টাফ রিপোর্টার, বরকল (রাঙামাটি): প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ২:৪৭ অপরাহ্ণ
রাঙামাটি জেলা পরিষদের নেতৃত্ব বদলের সুবাতাস: মনীষ দেওয়ানকে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চায় বরকলবাসী

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে বীর মুক্তিযোদ্ধা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মনীষ দেওয়ানের নাম প্রস্তাব করে বরকলের মানুষের বক্তব্য।

৫০

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদে নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণকে কেন্দ্র করে জেলার সর্বস্তরে ব্যাপক রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনা-পর্যালোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে জেলা পরিষদকে দুর্নীতিমুক্ত, পূর্ণাঙ্গ স্বচ্ছ ও শতভাগ জবাবদিহিমূলক একটি আধুনিক জনকল্যাণমুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুনর্গঠন করতে বীর মুক্তিযোদ্ধা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মনীষ দেওয়ানকে চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব দেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছেন বরকল উপজেলার তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সাধারণ অধিবাসীদের একটি বড় অংশ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য রাঙামাটির দুর্গম পাহাড়ি জনপদের সামগ্রিক উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগব্যবস্থাসহ মৌলিক নাগরিক সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা ও স্থবিরতা বিরাজ করছে। এসব জটিল ও দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা নিরসনে একজন অত্যন্ত সৎ, অভিজ্ঞ, দূরদর্শী ও দৃঢ়চেতা নেতৃত্বের একান্ত প্রয়োজন। সেই বিচার বিশ্লেষণ ও বাস্তব বিবেচনার আলোকে তারা বীর মুক্তিযোদ্ধা মনীষ দেওয়ানকে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মসনদে ও শীর্ষ নেতৃত্বে দেখতে চান।

উপজেলার তৃণমূল পর্যায়ের সাধারণ মানুষ ও সামাজিক ব্যক্তিদের তথ্য অনুযায়ী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মনীষ দেওয়ান ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সম্মুখ সমরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ঐতিহাসিকভাবে রাঙামাটি জেলায় স্বাধীনতার প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলনকারীদের অন্যতম বীর সন্তান হিসেবেও অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে তাঁর নাম উচ্চারণ করা হয়। এরপর দীর্ঘ সেনাজীবনেও তিনি অপরিসীম সততা, কঠোর শৃঙ্খলা এবং অদম্য সাহসিকতার অনন্য পরিচয় দিয়েছেন বলে তাঁর অনুরাগী ও সমর্থকদের দাবি।

বরকলের তৃণমূল রাজনীতির নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের মূল প্রত্যাশা হলো, কেবল সংকীর্ণ দলীয় বিবেচনার ঊর্ধ্ব উঠে যোগ্যতা, নিবেদিত সততা ও বস্তুনিষ্ঠ নেতৃত্বের সক্ষমতাকে প্রাধান্য দিয়েই যেন এবার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচন করা হয়। একই সাথে তারা রাঙামাটির আঞ্চলিক রাজনীতি ও প্রশাসনিক স্তরে বিদ্যমান অর্থলোভী, টেন্ডারবাজি এবং অনাকাঙ্ক্ষিত চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ও কঠোর আইনি অবস্থান নেওয়ার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন।

বরকল উপজেলার একাধিক স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাকর্মী ব্যক্ত করেন যে, পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে পার্বত্য অঞ্চলের সকল জনজাতির মধ্যে সুদৃঢ় সম্প্রীতি ও আন্তঃসম্পর্ক বজায় রেখে দুর্গম অঞ্চলের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে একজন অভিজ্ঞ, প্রবীণ ও নির্মোহ নিরপেক্ষ নেতৃত্ব অত্যন্ত জরুরি। তাঁদের মতে, মনীষ দেওয়ানের মতো একজন শৃঙ্খলাবদ্ধ ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিত্ব দায়িত্ব গ্রহণ করলে জেলা পরিষদের সকল প্রশাসনিক কার্যক্রমে দৃশ্যমান স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। এর পাশাপাশি পাহাড়ি দুর্গম অঞ্চলের দীর্ঘদিনের থমকে থাকা সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অভূতপূর্ব গতিশীলতা সঞ্চার হতে পারে।

প্রস্তাবিত নেতৃত্বের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মনীষ দেওয়ান অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানান, তাঁর ব্যক্তিগত ইচ্ছা কিংবা মতামতের বিষয়টি এখানে মুখ্য নয়। তবে যেকোনো রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় প্রয়োজনে দেশের স্বার্থে অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে তিনি সর্বদা প্রস্তুত রয়েছেন। ব্যক্তিগতভাবে তিনি চান যে,যেকোনো দায়িত্বেই সৎ এবং সকল রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পক্ষপাতহীন নেতৃত্ব সুপ্রতিষ্ঠিত হোক—তিনি যে ব্যক্তিই হন না কেন। একই সাথে সমাজের অর্থলোভী, অনৈতিক টেন্ডারবাজ ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সামাজিক ও প্রশাসনিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।

বরকল উপজেলার সাধারণ মানুষের চূড়ান্ত প্রত্যাশা, পাহাড়ি অঞ্চলের দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও মৌলিক পরিকাঠামোগত অবকাঠামোকে অগ্রাধিকারের শীর্ষে রেখে নতুন জেলা পরিষদের কর্মপরিকল্পনা পরিচালনা করা দরকার। যোগ্য, সৎ ও অভিজ্ঞ নেতৃত্বের মাধ্যমে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদকে দুর্নীতির ঊর্ধ্বে তুলে এনে সাধারণ মানুষের প্রকৃত সেবা কেন্দ্রে পরিণত করা সম্ভব হবে বলে সকলে মনে করছেন। বর্তমানে জেলা পরিষদের শীর্ষ পদে কে আসছেন তা নিয়ে পুরো রাঙামাটিজুড়ে নানা সমীকরণ ও কৌতুহল তৈরি হলেও বরকলের তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ অধিবাসীরা বিশিষ্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা মনীষ দেওয়ানকে নিয়ে আশাবাদী এবং তাঁরা সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে গভীর প্রত্যাশা নিয়ে চেয়ে আছেন।

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদকে দুর্নীতিমুক্ত ও গতিশীল করতে স্থানীয়দের এই সামাজিক দাবি অত্যন্ত সময়োপযোগী। যোগ্য ও নিবেদিতপ্রাণ নেতৃত্বের মাধ্যমে দুর্গম পাহাড়ি জনপদের মানুষের সুশাসন ও প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত হবে বলে আশা করা যায়।