নিকলী হাওড়ে একদিনের আনন্দ ভ্রমনে প্রেসক্লাব-সাটুরিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ!

মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫২ অপরাহ্ণ
নিকলী হাওড়ে একদিনের আনন্দ ভ্রমনে প্রেসক্লাব-সাটুরিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ!
৮৩

প্রকৃতির অপরূপ লীলাভূমি, হাওর-বাঁওড়, নদী-নালা, বিস্তীর্ণ জলরাশি ও সবুজের সমারোহে সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক জেলা কিশোরগঞ্জ। প্রাচীনকাল থেকেই ঐতিহ্য-ইতিহাসের নানা নিদর্শনে ভরপুর এই জেলাটি ভ্রমন পিপাসু মানুষদের পছন্দের একটি স্থান।

প্রেসক্লাব সাটুরিয়ার (মানিকগঞ্জ) একঝাঁক দুরন্ত সাংবাদিকবৃন্দ সেই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার ১১আগষ্ট, ভ্রমণআনন্দে মেতে উঠেছিল কিশোরগঞ্জের নিকলী হাত্তড়ে। মূলতঃ পেশাগত জীবনের ব্যস্ততাকে দুরে ঠেলে নিজেদের জন্য কিছুটা সময় বের করে সহকর্মীদের সঙ্গে একদিনের আনন্দ ভাগাভাগিতে এই আনন্দভ্রমণের আয়োজন।

আনন্দভ্রমণটি, শুরু থেকেই ছিল উৎসবমুখর। সেই দিন ভোর ৫টায় সাটুরিয়া বাসষ্ট্যান্ড থেকে ১২সীটের একটি হাইজ-গাড়ী শন শন শব্দে ছুটে চলছিল কিশোরগঞ্জের নিকলী ও মিটামেইনের উদ্দেশ্যে। ধামরাই- নবীনগরের পথ ধরে গাজীপুরে হয়ে ছুটে চলা হাইজটি মাষ্টারবাড়ীতে সাময়িক সময়ের জন্য বিরতী নিয়ে ছিল। সেখানকার একটি পথচলা হোটেলে বাংলা খাবারে সাংবাদিকবৃন্দ চা-নাস্তা শেষে আবার ছুটে চলে কাংঙ্কীত লক্ষ্যের উদ্দেশ্যে। প্রায় পাচঁঘন্টার পথ অতিক্রম করে অবশেষে বেলা বারটা নাগাদ হাইজটি পৌঁছিয়ে যায় কিশোরগঞ্জের নিকলী হাওড় সংলগ্ন বেড়ীবাধেঁ।

তৎপর বেলা বারটা ত্রিশ মিনিটে একটি দুতলা মনোরম ট্রলারে করে নিকলী হাওড় ভ্রমন শুরু হয়। সেই দিন বিস্তীর্ণ জলরাশির নিকলী হাওড় ছিল কাকচোখের স্বচ্ছ কালো জলরাশিতে কানায় কানায় পরিপুর্ন। মাথার উপরে দিগন্ত জোড়া সাদা মেঘের বিস্তৃত আকাশ, হাওড়ের বুকচিরে ছুটে চলা অংখ্য ট্রলার, বিভিন্ন রংয়ের পাল তুলা নৌযান এবং চারপাশের সবুজ প্রকৃতি সকলকে মুগ্ধ করে ছিল। মনে হচ্ছিল এ যেন প্রকৃতির নৈসর্গের স্বপ্নভুমি। এই সময় মনের আনন্দে কেউ ছবি তুলছিল, কেউ ভিডিও ধারণ আবার কেউ হাওড়ের কাল জলরাশি ছুয়ে ইতিহাসের স্বাক্ষী হওয়ার চেষ্ঠা করছিল।

বেলা ৩টায় ট্রলারটি বিশাল জলরাশি অতিক্রম করে সোন্দর্য্যে লীলাভুমি মিঠামইন স্পর্শ করে। ট্রলার থেকে নেমে সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের বাড়ীর সন্নিকটের একটি হোটেলে বাংলা খাবারে দুপুরের লাঞ্চ শেষে আবার যাত্র শুরু হয়। এই ক্ষেত্রে দুইটি ব্যাটারি চালিত হ্যালোবাইকে করে ১২জনের এই সাংবাদিক ট্রিমটি এগিয়ে চলেন স্বপ্নের জিরোপয়েন্টে।। এই সময় পাশ্চাত্যের ধাচে নির্মিত নিকলী-অষ্টোগ্রামের হাইয়ে রাস্তাটি হাওরঘেরা এই জনপদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও নির্মল পরিবেশ মনে আলাদা আনন্দ ও অনুভূতির সৃষ্টি করে।

চারপাশের বিস্তীর্ণ জলাভূমি, হাইওয়ে জনপথ ও প্রকৃতির নিবিড় সান্নিধ্য যেন শহুরে ব্যস্ততা থেকে এক অন্য জগতে নিয়ে যায়। এই সময় রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের বাসভবন পরিদর্শন, ও বহুল আলোচিত ডিবি হারুনের প্রমোদ পয়েন্ট রিসোর্ট ভেলী কালের স্বাক্ষী হয়ে যায়।

বেলা চারঘটিকায় ফিরতি পথে নিকলী হাওড়ে আবার ট্রলারটি পথচলা শুরু হয়। পথে মধ্যে দ্বীপ আকৃতির আদলে গড়ে তুলা মিঠামইন সেনাক্যাপের সৌন্দয্র্য সাংবাদিকদের মনে আলাদা প্রশান্তি এনে দেয়। সন্ধ্যা সাতটায় বিশাল শান্ত জলরাশি ঠেলে ট্রলারটি নিকলী ঘাটে নোঙ্গর করে।

ট্রলার থেকে নেমে চা-নাস্তা শেষে সাতটা ত্রিশ মিনিটে হাইজটি ফিরতি পথে সাটুরিয়ার উদ্দেশ্যে ছুটে চলে। পথে মধ্যে উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ ঈদ জামাতের ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ময়দান ঘুরে দেখে-ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে ধারণা নেন তারা।

পাশাপাশি কিশোরগঞ্জের অন্যতম ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থাপনা পাগলা মসজিদ ও ইসলামিক কমপ্লেক্স পরিদর্শন এবং স্রষ্টার কৃতজ্ঞতায় দুইরাকাত নফল নামাজ আদায় করেন তারা। তারপর দূরন্ত গতিতে ছুটে চলা হাইজটি কাপাসিয়া-গাজীপুরের পথ ধরে কালিয়াকৈর হয়ে রাত ২টায় সাটুরিয়ায় পদার্পন করলে আনন্দ ভ্রমনের পরিসমাপ্তি ঘটে।

ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক গুরুত্বপুর্ন এই স্থানগুলো ঘুরে দেখে সাংবাদিকরা যেমন জ্ঞান অর্জন করেছেন, তেমনি পেয়েছেন আত্মিক প্রশান্তিও। পুরো ভ্রমণজুড়ে প্রকৃতির সৌন্দর্যের পাশাপাশি ছিল সহকর্মীদের মধ্যে প্রাণবন্ত আড্ডা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ।

এই আনন্দভ্রমণে অংশ নিয়ে ছিলেন প্রেসক্লাব সাটুরিয়ার আহ্বায়ক মোঃ ইউনুস আলী, সদস্য সচিব মোঃ আজিজুল রহমান, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মোঃ রেজাউল করিম ও মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক,সিনিয়র সদস্য, সিকদার শামীম আল মামুন, প্রকৌশলী মোঃ মাসুদ রানা। সদস্য, মোঃ আরিফুল ইসলাম অরি মোঃ নজরুল ইসলাম মোঃ আমিনুর ইসলাম, মোঃ সজিব হোসেন, মাসুম বিল্লাহপ্রমুখ।