সাটুরিয়ায় জাম্বুরার বাম্পার ফলন, বিক্রিতে ব্যস্ত চাষি ও ব্যবসায়ীরা
এ বছর মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে জাম্বুরার বাম্পার ফলন হয়েছে। বিশেষ করে বালিয়াটি, তিল্লি, সাটুরিয়া, বরাইদ ও দিঘলীয়া ইউনিয়নে জাম্বুরার ব্যাপক ফলনে অনেক গৃহস্থ ও চাষির মধ্যে বাড়তি আয়ের আশা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জাম্বুরা সংগ্রহ ও বিক্রির ধুম চলছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চাষিরা গাছ থেকে জাম্বুরা সংগ্রহ করছেন। আবার অনেক এলাকায় ব্যবসায়ীরা আগেই গাছ কিনে নিয়ে নিজেদের লোকজনের মাধ্যমে সুবিধামতো সময়ে ফল সংগ্রহ করছেন।
বরাইদ ইউনিয়নের হামজা গ্রামের জাম্বুরা চাষি যতু মিয়া জানান, তার মাইঠালের পাড়ে একটি জাম্বুরা গাছ রয়েছে। অযত্ন-অবহেলায় বেড়ে ওঠা ওই গাছটি গত দুই বছর ধরে ফল দিচ্ছে। গত বছর কয়েক হাজার টাকার জাম্বুরা বিক্রি করেছেন। এ বছর গাছে প্রচুর ফল ধরেছে। তিনি আশা করছেন, এবার ৮ থেকে ১০ হাজার টাকার জাম্বুরা বিক্রি করতে পারবেন।
বালিয়াটি জমিদারবাড়ি সংলগ্ন এলাকার গৃহস্থ সলিম মাস্টার জানান, তার বাড়ির দক্ষিণ পাশে পুকুরের ধারে দুটি জাম্বুরা গাছ রয়েছে। বিয়ের প্রথম বছরে তার স্ত্রী শখ করে গাছ দুটি লাগিয়েছিলেন। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে এসব গাছের জাম্বুরা বিক্রি করেন তারা। এবার ফলন ভালো হওয়ায় দুই মাস আগেই গেদু মিয়া নামের এক ব্যবসায়ী ১২ হাজার টাকায় গাছ দুটি কিনে নিয়েছেন।
জাম্বুরার জাত সম্পর্কে সলিম মাস্টার জানান, দেশে সাধারণত বাউ জাম্বুরা, থাই জাম্বুরা ও ভিয়েতনামি জাম্বুরা চাষ হয়ে থাকে। এর মধ্যে ভিয়েতনামি জাম্বুরার চাহিদা বেশি। এর ভেতরের অংশ লাল, কোয়া বড় এবং রসে ভরপুর হওয়ায় সারাদেশে এর কদর রয়েছে। থাই জাম্বুরা আকারে ৩ থেকে ৫ কেজি পর্যন্ত হলেও স্বাদের দিক থেকে তুলনামূলক কম হওয়ায় এ উপজেলায় এর চাষ কম।
দিঘলীয়া ইউনিয়নের চাচিতারা গ্রামের শহিদ মিয়া জানান, এ এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে জাম্বুরা চাষ হয় না। তবে বাড়ির সামনে বা পেছনে অনেক সময় অযত্নে-অবহেলায় বেড়ে ওঠা জাম্বুরা গাছ থেকেও কৃষক ও গৃহস্থরা বাড়তি আয় করছেন। জাম্বুরা চাষ বা পরিচর্যায় তেমন খরচ না থাকায় স্বাভাবিকভাবেই গাছ বেড়ে উঠে এবং ভালো ফলন দেয়।
তিনি আরও জানান, উপজেলার প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ বাড়ির গৃহস্থ বা চাষিরা বর্ষা মৌসুমে জাম্বুরা বিক্রি করে বাড়তি আয় করেন। অনেক পরিবারের সারা বছরের বাজার খরচের একটি অংশও আসে এই ফল বিক্রি থেকে।
দিঘলীয়া ইউনিয়নের ব্যবসায়ী ওজেদ মিয়া জানান, তিনি মূলত লেবুর ব্যবসা করেন। বর্ষা মৌসুমে লেবুর দাম কম থাকায় বর্তমানে জাম্বুরার ব্যবসা করছেন। সাটুরিয়ার জাম্বুরা আকারে বড়, মিষ্টি ও রসে ভরপুর হওয়ায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে এর চাহিদা রয়েছে।
তিনি বলেন, সাটুরিয়ায় বাণিজ্যিকভাবে জাম্বুরার চাষ না হলেও প্রায় প্রতিটি গৃহস্থের বাড়িতে একটি বা দুটি জাম্বুরা গাছ রয়েছে। তারা বাড়ি বাড়ি ঘুরে দরদাম করে জাম্বুরা কিনে থাকেন।
ওজেদ মিয়া আরও জানান, গড়ে প্রতিটি জাম্বুরা ২০ থেকে ২৫ টাকা দরে কিনে ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেন। ঢাকার কাওরান বাজার, শ্যামবাজার ও শাঁখারীপট্টি এলাকায় জাম্বুরার চাহিদা বেশি থাকায় তিনি সেখানে বেশি নিয়ে যান। গাছ থেকে আগেই চুক্তিতে কিনতে পারলে ব্যবসায়ীদের লাভও বেশি হয়।
জাম্বুরা একটি পুষ্টিসমৃদ্ধ সাইট্রাস ফল। এতে থাকা বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে এবং হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে ভূমিকা রাখে। তাই বেশি করে জাম্বুরা চাষের মাধ্যমে পুষ্টি ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

