শিবপুরে প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে ইউপি সদস্য আটক: গণধোলাইয়ের পর উদ্ধার, এলাকায় উত্তেজনা
নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার পুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রুবেল মিয়াকে এক প্রবাসীর স্ত্রীর ঘর থেকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করে গণধোলাই দিয়েছে স্থানীয় জনতা। গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ২০ মিনিটে পুটিয়া ইউনিয়নের কুমরাদী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুমরাদী গ্রামের প্রবাসী আমজাদের স্ত্রীর সাথে ইউপি সদস্য রুবেল মিয়ার গত প্রায় দুই বছর ধরে অনৈতিক সম্পর্ক চলছিল। এলাকাবাসী বিভিন্ন সময় এর প্রতিবাদ করলেও মেম্বার রুবেল তার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে উল্টো সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে আসছিলেন।
গত বৃহস্পতিবার রাতে রুবেল মেম্বার ওই প্রবাসীর ঘরে প্রবেশ করলে স্থানীয় জনতা বিষয়টি টের পেয়ে চারদিক থেকে ঘরটি অবরুদ্ধ করে ফেলে এবং তাকে হাতেনাতে আটক করে। এই ঘটনায় উত্তেজিত জনতা রুবেল মেম্বারকে গণধোলাই (উত্তম-মাধ্যম) দেয়। এতে তার নাক, মুখ ও কপালসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়।
আটকের পর রুবেল মেম্বার নিজের প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ফোন করতে থাকেন। খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাত পৌনে ১টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদের সহায়তায় দফাদার শীতল ও গ্রাম পুলিশ সৈকত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরবর্তীতে পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের মেম্বার হান্নানের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। এরপর গভীর রাতে রুবেল মেম্বারের বাবা-মা ঘটনাস্থলে এসে রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নিয়ে যান।
এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জানান, গত ২৪ জুলাই (২০২৪) সরকার পতনের পর যেখানে রুবেল মেম্বারের আত্মগোপনে থাকার কথা, সেখানে তিনি কীভাবে এখনো বুক ফুলিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে চলেছেন, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
তাছাড়া, পুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ওই প্রবাসী নারী আর্থিকভাবে সচ্ছল হওয়া সত্ত্বেও অনিয়মের মাধ্যমে ভিজিডি (VGD) কার্ড বাগিয়ে নিয়েছেন এবং প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে সরকারি চাল তুলছেন। মেম্বারের প্রভাব খাটিয়ে এই কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে জানতে পেরে স্থানীয় জনসাধারণের মনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য রুবেল মিয়া তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ওই নারী যদি নিজে মুখে বলে যে আমার সাথে তার কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ড ঘটেছে, তবেই আমি অপরাধী। আর যদি আমাকে ফাঁসাতে মিথ্যা গুজব রটানো হয়ে থাকে, তবে আমি এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।”
এলাকাবাসীর দাবি, ক্ষমতার অপব্যবহার করে এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং সরকারি চাল চুরির সাথে জড়িত মেম্বারের বিরুদ্ধে যেন দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার বিষয়ে পুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদ এবং শিবপুর মডেল থানা পুলিশ উভয় পক্ষই অবগত রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।










