উৎকণ্ঠায় শতাধিক পরিবার

করতোয়ার ভয়াল ভাঙনে হুমকিতে আশ্রয়ণ প্রকল্প

মো. রিফাত হোসেন, ক্রাইম রিপোর্টার : প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫২ অপরাহ্ণ
করতোয়ার ভয়াল ভাঙনে হুমকিতে আশ্রয়ণ প্রকল্প
১৬০

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার ১ নম্বর বুলাকিপুর ইউনিয়নের কুলানন্দনপুর নাপিতপাড়া এলাকায় করতোয়া নদীর তীব্র ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে একটি আশ্রয়ণ প্রকল্প। প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে নদীতীরের মাটি। এতে প্রকল্পের শতাধিক পরিবার চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর ভাঙন আশ্রয়ণ প্রকল্পের একেবারে সন্নিকটে পৌঁছে গেছে। নদীতীরের বড় একটি অংশ ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের আশঙ্কায় নারী-পুরুষসহ স্থানীয় বাসিন্দারা নদীতীরে জড়ো হয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। তাদের আশঙ্কা, যেকোনো সময় আরও বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিতে পারে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে করতোয়া নদীর ভাঙন অব্যাহত থাকলেও কার্যকর কোনো স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সম্প্রতি টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। নদীতীর ধসে পানি এখন আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি ঘর চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিলে মুহূর্তেই আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরবাড়ির পাশাপাশি আশপাশের বসতভিটাও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

 

আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা আদরী রাণী বলেন, “আমরা খুব কষ্টে আছি। আমাদের নিজের কোনো জমি নেই। আগে এখানেও আরও কয়েকটি ঘর ছিল, সেগুলো নদীতে চলে গেছে। গত ১৫ থেকে ২০ দিনে ভাঙন অনেক বেড়েছে। বৃষ্টি শুরু হলেই বুক ধড়ফড় করে। সরকার অনেক কষ্টে আমাদের এই ঘর দিয়েছে। এখন সেই ঘরই হারানোর ভয়। রাতে ঘুমাতে পারি না। আমাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।”

 

একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করে সুরাইয়া বেগম বলেন, “নদীভাঙনের কারণে ঘর খুলে সরিয়ে নেওয়ারও সুযোগ পাইনি। নতুন করে ঘর নির্মাণের মতো টাকা নেই, জমি কেনারও সামর্থ্য নেই। কয়েক দিন আগেই পাশের ঘর নদীতে চলে গেছে। এখন আমাদের পালার অপেক্ষা।”

 

এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, “আশ্রয়ণ প্রকল্পের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি নদীভাঙন রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা চলছে।”

 

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, যাতে সরকারের দেওয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো রক্ষা পায় এবং অসহায় পরিবারগুলো নতুন করে গৃহহীন হয়ে না পড়ে।