পুনর্বাসন ও বাঁধ নির্মাণের দাবি স্থানীয়দের
কুমারপাড়ায় নদীভাঙনে বিলীন ঘরবাড়ি ও সড়ক
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের মুংলিশপুর গ্রামের কুমারপাড়ায় নদীভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। একের পর এক বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও গ্রামের প্রধান সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় চরম দুর্ভোগ ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ভাঙনকবলিত মানুষের দাবি, সাময়িক ত্রাণ নয়, স্থায়ী নদীশাসন ও পুনর্বাসনের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
সরেজমিনে দেখা যায়, কুমারপাড়া এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের তীব্রতায় বহু পরিবার তাদের শেষ সম্বল বসতভিটা হারিয়ে গৃহহীন হয়ে পড়েছে। কেউ খোলা আকাশের নিচে, আবার কেউ অন্যের জমিতে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিয়েছেন। নদীগর্ভে রাস্তাঘাট বিলীন হয়ে যাওয়ায় পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এতে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ভিটেমাটি হারানো কুমারপাড়ার এক বাসিন্দা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “নদী আমাদের সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। ঘরবাড়ি নেই, রাস্তাও নেই। এখন কোথায় যাব, কীভাবে বাঁচব—সেটাই বুঝতে পারছি না। আমাদের এই কষ্ট দেখার যেন কেউ নেই।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নদীভাঙন অব্যাহত থাকলেও তা প্রতিরোধে কিংবা ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে কোনো স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। মাঝেমধ্যে বিভিন্ন আশ্বাস মিললেও বাস্তবে তার কার্যকর প্রতিফলন দেখা যায়নি বলে তারা দাবি করেন।
ভাঙনকবলিত মানুষের একমাত্র দাবি, নদীভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং বিলীন হয়ে যাওয়া রাস্তাঘাট পুনর্নির্মাণ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ না হলে অদূর ভবিষ্যতে কুমারপাড়ার আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

