রাজনীতি, বালু ব্যবসা নাকি আধিপত্যের দ্বন্দ্ব?

জুয়েল বড়ুয়া, চট্টগ্রাম ব্যুরো : প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ১:২৫ অপরাহ্ণ
রাজনীতি, বালু ব্যবসা নাকি আধিপত্যের দ্বন্দ্ব?
৮০

চট্টগ্রামের রাউজানে প্রকাশ্যে গুলি করে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে (৪৫) হত্যার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দিনদুপুরে সংঘটিত এ হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। হত্যার নেপথ্যে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, বালু ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নাকি স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারের বিরোধ তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মাসুদ চৌধুরী রাঙ্গুনিয়া ও রাউজান এলাকায় যুবদলের একজন প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরেও তার রাজনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছিল। ফলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে তার কোনো বিরোধ ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, একদল অস্ত্রধারী প্রকাশ্যে মাসুদের ওপর হামলা চালিয়ে গুলি করে পালিয়ে যায়। হামলাকারীদের সংখ্যা ৫ থেকে ৭ জন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে তার মৃত্যু হয়।

এদিকে স্থানীয় পর্যায়ে কর্ণফুলী নদীকেন্দ্রিক বালু উত্তোলন ও ব্যবসায়িক স্বার্থ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে বলে জানা গেছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এমন কোনো ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের সম্পর্ক আছে কি না, সেটিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো পক্ষই প্রকাশ্যে নির্দিষ্ট অভিযোগ আনেনি।

হত্যাকাণ্ডের পর রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটে। নেতাকর্মীরা দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার কারণ সম্পর্কে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

রাজনৈতিক বিরোধ, ব্যক্তিগত শত্রুতা, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বসহ সব সম্ভাব্য বিষয় তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, হামলাটি ছিল পরিকল্পিত এবং হামলাকারীদের মূল লক্ষ্যই ছিল মাসুদকে হত্যা করা। তবে কারা এ হত্যার নির্দেশ দিয়েছে এবং কী কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে, তা উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রকাশ্যে সংঘটিত এ হত্যাকাণ্ড শুধু একজন রাজনৈতিক নেতার মৃত্যু নয়, বরং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও আধিপত্যের রাজনীতির বাস্তব চিত্রও সামনে নিয়ে এসেছে। এখন সবার নজর পুলিশের তদন্তে মাসুদ হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হয় কি না, সেটিই দেখার বিষয়।