নরসিংদীর রায়পুরায় বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের স্মরণে দৃষ্টিনন্দন ম্যুরাল ‘বাংলার ঈগল’ উন্মোচন
মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীরসেনানী, বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের স্মৃতি অমর ও অক্ষয় করে রাখার লক্ষ্যে নরসিংদীর রায়পুরায় তাঁর একটি নবনির্মিত দৃষ্টিনন্দন ম্যুরাল উন্মোচন করা হয়েছে। আজ ২ জুন মঙ্গলবার উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের রামনগর মহাসড়ক সংলগ্ন এলাকায় ‘বাংলার ঈগল’ নামের এই শৈল্পিক স্মারক ম্যুরালটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়। রায়পুরা উপজেলা প্রশাসনের বিশেষ উদ্যোগে এবং অর্থায়নে এই দৃষ্টিনন্দন ম্যুরালটি অত্যন্ত সুচারুভাবে নির্মাণ করা হয়েছে, যা বীরের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে।
এই জাঁকজমকপূর্ণ উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ‘বাংলার ঈগল’-এর পর্দা উন্মোচন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আশরাফ উদ্দিন। বর্ণাঢ্য এই আয়োজনে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন নরসিংদীর জেলা প্রশাসক জনাব ইসরাত জাহান কেয়া এবং নরসিংদীর পুলিশ সুপার জনাব মোঃ আবদুল্লাহ্-আল-ফারুক। এছাড়া রায়পুরার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এই গৌরবোজ্জ্বল মুহূর্তের সাক্ষী হতে অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
স্মারক ম্যুরালটি উন্মোচনের পরপরই বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এরপর বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানসহ মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল বীর শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং দেশের অব্যাহত শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রার্থনা করে এক বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। মোনাজাত সম্পন্ন হওয়ার পর রায়পুরা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক সংক্ষিপ্ত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ও অন্যান্য বিশিষ্ট বক্তারা বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের বীরত্বগাথা ও দেশের স্বাধীনতার জন্য তাঁর দেওয়া সর্বোচ্চ ত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। বক্তারা তাদের বক্তব্যে সুনির্দিষ্টভাবে বলেন যে, বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান আমাদের জাতীয় অহংকার। রায়পুরার মাটিতে নির্মিত এই দৃষ্টিনন্দন ম্যুরাল ‘বাংলার ঈগল’ নতুন ও তরুণ প্রজন্মকে গভীর দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করবে। এটি তরুণ সমাজকে মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে এবং বীরদের মহান আদর্শে নিজেদের গড়ে তুলতে আজীবন অনুপ্রেরণা জোগাবে। উপজেলা প্রশাসনের এমন চমৎকার উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং সাধারণ জনগণ। তারা মনে করছেন, মহাসড়কের পাশে নির্মিত এই ম্যুরালটি যেমন এলাকার সৌন্দর্য বহুলাংশে বাড়িয়েছে, তেমনি এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে মহান মুক্তিযুদ্ধের একটি জীবন্ত ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে যুগের পর যুগ দাঁড়িয়ে থাকবে।
বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত ‘বাংলার ঈগল’ ম্যুরালটি রায়পুরার বুকে দেশপ্রেমের এক নতুন বাতিঘর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল। তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বলীয়ান করতে এবং বীরদের আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখতে এমন উদ্যোগ দেশের প্রতিটি অঞ্চলেই ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন।

