সহায়তা পৌঁছাল সাংবাদিক মথি ত্রিপুরার উদ্যোগে
রুমায় অসহায় বৃদ্ধ দম্পতির পাশে দাঁড়ালেন হংকং প্রবাসী ত্রিপুরা নারী
বান্দরবানের রুমায় অসহায় এক বৃদ্ধ দম্পতির পাশে দাঁড়িয়েছেন হংকং প্রবাসী এক ত্রিপুরা নারী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই প্রবাসী নারী মানবিক সহায়তা হিসেবে বৃদ্ধ দম্পতির জন্য ৫ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান প্রদান করেছেন।
গত ১৪ মে “অসহায় বৃদ্ধ দম্পতির পাশে রুমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিজা আক্তার বিথী” শিরোনামে প্রকাশিত একটি সংবাদ দেখে মানবিক সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। জাতীয় দৈনিক নববাণী পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল chtbarta.com-এ সংবাদটি প্রকাশের পর বিষয়টি তাঁর নজরে আসে। পরে তিনি রুমা প্রতিনিধি সাংবাদিক মথি ত্রিপুরার ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরে ৫ হাজার টাকা পাঠান।
বুধবার (২৬ মে) সাংবাদিক মথি ত্রিপুরা নিজ উদ্যোগে ওই অর্থ অসহায় বৃদ্ধ দম্পতির হাতে পৌঁছে দেন। আর্থিক সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বৃদ্ধ দম্পতি। তারা প্রবাসী ওই নারীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু, সুখ-সমৃদ্ধি ও কর্মজীবনের সফলতা কামনা করে দোয়া ও আশীর্বাদ করেন।
প্রবাসী ওই নারী বলেন, “আমি খুব বেশি সচ্ছল নই। তারপরও অসহায় এই বৃদ্ধ দম্পতির পাশে দাঁড়াতে চাই। আমার সামান্য এই সহযোগিতায় যদি তাঁদের কিছুটা উপকার হয়, যদি এক বস্তা চাল কিনে খেতে পারেন, তাহলেই আমি আনন্দিত হব।”
এ বিষয়ে সাংবাদিক মথি ত্রিপুরা বলেন, সাংবাদিকতা পেশার পাশাপাশি সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারা তাঁর জন্য সৌভাগ্যের বিষয়। একজন মানুষের কষ্টের কথা সংবাদ মাধ্যমে তুলে ধরার ফলে যদি তাঁদের জন্য সহায়তার ব্যবস্থা হয়, সেটিই তাঁর কাজের সবচেয়ে বড় সার্থকতা।
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকরাই সমাজের দর্পণ। সমাজের সমস্যা, সম্ভাবনা, উন্নয়ন এবং মানুষের সুখ-দুঃখের চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরাই সাংবাদিকতার মূল লক্ষ্য। তাই এই মহান পেশাকে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার না করে জনকল্যাণ ও উন্নয়নমূলক কাজে কাজে লাগানো প্রয়োজন। একটি সত্য সংবাদ যেমন অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তুলতে পারে, তেমনি একটি মানবিক প্রতিবেদন অসহায় মানুষের জীবনেও আশার আলো জ্বালাতে পারে।
ভবিষ্যতেও সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে থেকে মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে সমাজের বিত্তবান, প্রবাসী ও মানবিক ব্যক্তিদের সহযোগিতাও কামনা করেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে। সামান্য সহায়তাও যে একটি অসহায় পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে পারে, হংকং প্রবাসী ওই ত্রিপুরা নারীর উদ্যোগ তারই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।
স্থানীয়রা মনে করছেন, মানবিকতা, সহমর্মিতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার এমন উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথকে আরও সুগম করবে।




