রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদনের আশা

লিচুর রাজধানী বিজয়নগরে বাম্পার ফলন, হাসি ফুটেছে চাষিদের মুখে

জুনাইদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৬:২৮ অপরাহ্ণ
লিচুর রাজধানী বিজয়নগরে বাম্পার ফলন, হাসি ফুটেছে চাষিদের মুখে
৪৮

গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহের মাঝেও দেশের অন্যতম বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী লিচুর বাজার এখন জমজমাট ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে। গুণগত মান, অসাধারণ স্বাদ ও মনমাতানো সুগন্ধের কারণে এখানকার লিচু দেশজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। সেই সুবাদে বিজয়নগর এখন অনেকের কাছেই পরিচিত ‘লিচুর রাজধানী’ বা ‘লিচুর অঙ্গরাজ্য’ হিসেবে।

 

চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া ও সময়মতো পরিচর্যার কারণে এ বছর লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে বলে জানিয়েছেন চাষি ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও দেখছেন তারা। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে আগাম জাতের লিচু উঠতে শুরু করেছে এবং ভালো দাম পাওয়ায় চাষিদের মুখে স্বস্তির হাসি ফুটেছে।

 

উপজেলার পাহাড়পুর, বিষ্ণুপুর, সিঙ্গারবিল, চম্পকনগর ও পত্তন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, ছোট-বড় প্রায় প্রতিটি বাগানের গাছই থোকায় থোকায় লাল টকটকে লিচুতে ভরে উঠেছে। স্থানীয় জাতের পাতি লিচুর পাশাপাশি চায়না-৩, বোম্বাই ও এলাচি জাতের লিচুর ফলনও এবার বেশ ভালো হয়েছে।

 

স্থানীয় চাষিরা জানান, মৌসুমের শুরুতে কিছুটা খরার প্রভাব থাকলেও পরবর্তী সময়ে আবহাওয়া লিচু চাষের জন্য অনুকূলে ছিল। এছাড়া পোকার আক্রমণ কম হওয়ায় ফলের আকার ও মানও ভালো হয়েছে।

 

চম্পকনগরের এক লিচু চাষি বলেন, “এবার আমার বাগানের প্রায় প্রতিটি গাছেই প্রচুর লিচু এসেছে। ফলন যেমন ভালো, বাজারে দামও এখন পর্যন্ত সন্তোষজনক। আশা করছি, গত কয়েক বছরের লোকসান এবার কাটিয়ে উঠতে পারব। আমাদের বিজয়নগরের মাটির গুণেই এখানকার লিচু এত মিষ্টি ও সুস্বাদু হয়।”

 

ইতোমধ্যে চম্পকনগর, আওলিয়া বাজার ও মেরাশানীসহ উপজেলার বিভিন্ন পাইকারি বাজারে লিচু কেনাবেচা জমে উঠেছে। ভোর থেকেই বাগান মালিক ও চাষিরা সদ্য পাড়া তাজা লিচু নিয়ে বাজারে আসছেন। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা পাইকারদের উপস্থিতিতে সরগরম হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।

 

ব্যবসায়ীরা জানান, বিজয়নগরের লিচু আকারে বড়, রসালো এবং এর আঁটি তুলনামূলকভাবে ছোট হয়। বর্তমানে জাত ও আকারভেদে প্রতি হাজার লিচু ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। বাজারে এখন সবচেয়ে বেশি আধিপত্য আগাম পাকা পাতি লিচুর হলেও বোম্বাই ও চায়না-৩ জাতের লিচুর চাহিদাও অনেক বেশি।

 

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, প্রতি বছর বিজয়নগরের লিচু বিক্রিকে কেন্দ্র করে কোটি কোটি টাকার অর্থনৈতিক লেনদেন হয়, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। লিচু পাড়া, বাছাই, খাঁচা তৈরি ও পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মৌসুমভিত্তিক কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে হাজারো মানুষের।

 

তবে স্থানীয় সচেতন মহল ও চাষিদের দাবি, বিজয়নগরে একটি হিমাগার ও সরকারি উদ্যোগে লিচু প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপন করা হলে চাষিরা আরও ন্যায্যমূল্য পেতেন এবং সংরক্ষণ সংকট অনেকটাই দূর হতো।

 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলন নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ে চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না ঘটলে এ বছর বিজয়নগর থেকে রেকর্ড পরিমাণ লিচু দেশজুড়ে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।