স্ত্রীর অভিযোগে,যৌতুক মামলায় সহকারী শিক্ষক কারাগারে

মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম আমিন উপজেলা প্রতিনিধি আখাউড়া প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৪ অপরাহ্ণ
স্ত্রীর অভিযোগে,যৌতুক মামলায় সহকারী শিক্ষক কারাগারে
২৭

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় যৌতুক নিরোধ আইনের মামলায় জামিন নামঞ্জুর করে মো. জাবেদুর রহমান নামের এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষককে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। গত ২৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেজবাহ উদ্দিন ভূঁইয়া এ আদেশ দেন।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক ২০২০ সালে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। উভয়েই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তাঁদের সংসারে দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই শিক্ষক স্বামীর অসহনীয় মানসিক নির্যাতন ও যৌতুকের চাপের মুখে পড়েন তাঁর স্ত্রী। দাম্পত্য কলহ নিরসনে পারিবারিকভাবে একাধিকবার শালিসী বৈঠক হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। উল্টো অভিযুক্ত শিক্ষক স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শ্বশুরবাড়ি থেকে ৫ লাখ টাকা যৌতুক এনে না দিলে তিনি সংসার করবেন না।

​গত ৭ আগস্ট যৌতুকের টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় দুই কন্যাসন্তানসহ স্ত্রীকে নিজ বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন ওই শিক্ষক। পরবর্তীতে নিরূপায় হয়ে স্ত্রী বাদী হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলা করার পর আসামি আদালতে আপসের শর্তে অস্থায়ী জামিন লাভ করেন। কিন্তু দুই দফায় জামিন পেলেও তিনি তা আপস না করে স্থায়ী জামিনের প্রার্থনা করেন। আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনা করে আপসের শর্ত ভঙ্গের দায়ে তাঁর অস্থায়ী জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার আদেশে উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ সালের যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় দায়ের করা মামলায় শর্ত সাপেক্ষে জামিনে ছিলেন মো. জাবেদুর রহমান। কিন্তু আপস না করে স্থায়ী জামিনের প্রার্থনা করায় বিজ্ঞ আদালত তাঁকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

​এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী জানান, যৌতুক মামলায় তাঁর বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কারাগারে থাকায় হাজিরা খাতায় তাঁকে অনুপস্থিত দেখানো হচ্ছে। বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে ইতোমধ্যে অবহিত করা হয়েছে।

​এদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জাহানারা খাতুনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল ও মেসেজ পাঠানো হলেও তাঁর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, অভিযুক্ত শিক্ষক কারাগারে থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।