টঙ্গীতে মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিশু যৌ/ন নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ: আটক ১

মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৭ অপরাহ্ণ
টঙ্গীতে মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিশু যৌ/ন নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ: আটক ১
৫৪

গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে একটি মাদ্রাসার উপশিক্ষক (ভাইস প্রিন্সিপাল)-কে আটক করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়লে শিশুটির বাবা অভিযুক্ত শিক্ষককে চড় মারেন এবং পরবর্তীতে উত্তেজিত স্থানীয় জনতা তাকে গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে টঙ্গী পশ্চিম থানায় নিয়ে যান।
গত বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকায় অবস্থিত ‘করিউল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’ প্রাঙ্গণে এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে। আটককৃত শিক্ষকের নাম মুসলেউদ্দিন, যিনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে ভাইস প্রিন্সিপাল হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা যায়, অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার প্রায় তিন দিন পর শিশুটির চালচলন ও মানসিক আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। শিশুটি হঠাৎ করেই মাদ্রাসায় যেতে তীব্র অনীহা ও ভয় প্রকাশ করতে থাকে। পরবর্তীতে মা-বাবা তাকে অত্যন্ত পরম স্নেহে জিজ্ঞাসাবাদ করলে শিশুটি তার ওপর ঘটে যাওয়া পুরো ঘটনার বিবরণ দেয়। পরিবারের দাবি, অভিযুক্ত শিক্ষক ঘটনার বিষয়ে কাউকে কিছু না বলার জন্য শিশুটিকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেছিলেন।
শিশুটির মাধ্যমে সত্যি ঘটনা জানার পর তার পিতা কালবিলম্ব না করে সরাসরি মাদ্রাসায় উপস্থিত হয়ে অভিযুক্ত উপশিক্ষকের কাছে উক্ত বিষয়ে জবাবদিহিতা চান। এ সময় ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের বিপুলসংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে জড়ো হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওচিত্রে অভিযুক্ত শিক্ষককে শিশুটিকে অশালীনভাবে স্পর্শ করার অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে দেখা যায়। ভিডিওটি ইন্টারনেটে ভাইরাল হওয়ার সাথে সাথে পুরো এলাকা জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশের একটি চৌকস দল দ্রুততম সময়ে আউচপাড়া এলাকার করিউল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায় পৌঁছায়। তারা উত্তেজিত ও ক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক মুসলেউদ্দিনকে নিরাপদে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শিশু নিপীড়নের গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। এই ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের আইনগত প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে এবং অপরাধের সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শিশুর প্রতি এমন ঘৃণ্য যৌন নিপীড়নের অভিযোগ অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুতর একটি বিষয়। শিশু সুরক্ষায় এ ধরনের প্রতিটি ঘটনার দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুর মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করা অতীব জরুরি। তবে একই সাথে আইনের শাসন বজায় রাখতে উত্তেজিত জনতার আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার পরিবর্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করাই সমীচীন।