বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
শিরোনাম:
গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলন বোর্ডবাজারে শান্তি, অন্যত্র ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও টিয়ারশেলকসবায় বসতবাড়িতে অভিযান, ২৯ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১ব্রাহ্মণবাড়িয়া ডিসি অফিসে একযোগে ৫৬ জনের বদলি: বহাল সিন্ডি/কেট চক্রধুনটে ৭ নভেম্বরের গণজমায়েত সফল করতে মাঠে বিএনপি নেতারাসিংগাইরে গাঁজাসহ আটক, ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৩ মাসের কারাদণ্ডরাজধানীর উত্তরখানে ভূমি সেবা নিতে এসে ভোগান্তি, ৪৫ হাজার টাকা দাবির অভিযোগভালুকায় স্কুলের নির্মাণসামগ্রী বিক্রির টাকায় প্রমোদভ্রমণ!ভালুকায় সাত বছরের শিশু ছাত্রীকে ধ/র্ষ/ণ চেষ্টায় আটক ১আশুলিয়া ধামসোনার ইউপি সচিব মাসুদ করিম বদলি: দুর্নীতি ও স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে সাত কার্যদিবসে তদন্ত শেষরাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি সাজেকে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবরোধ চলছেসরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম প্রচারে লামায় নারী সমাবেশ, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ভিডিওচিত্র প্রদর্শনী।মোহনপুর থানার নবাগত ওসির দায়িত্ব গ্রহণ: “মাদক নির্মূল ও হয়রানিমুক্ত পুলিশিং আমাদের অঙ্গীকার”ধুনটে ব্যক্তিগত উদ্যোগে বেহাল সড়ক সংস্কার করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী দুলালগাজীপুরে এনসিপির আয়োজিত গায়েবানা জানাজায় ধাওয়া দিলো পুলিশসাটুরিয়ার দিঘলীয়ায় রাস্তা নির্মানে অনিয়মের অভিযোগ !একটু বৃষ্টি হলেই জমে হাটু পানি !

গাজীপুরে চার শতাধিক মণ্ডপে দুর্গাপূজার উপহার দিল জেলা পরিষদ

মোঃ নজরুল ইসলাম (গাজীপুর মহানগর) প্রতিনিধি:- প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪৯ অপরাহ্ণ
গাজীপুরে চার শতাধিক মণ্ডপে দুর্গাপূজার উপহার দিল জেলা পরিষদ
৪২

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে গাজীপুরের চার শতাধিক পূজামণ্ডপে উপহারসামগ্রী বিতরণ করেছে জেলা পরিষদ। দুর্গোৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়া এবং মন্দিরসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে জেলা পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন,

গাজীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও গাজীপুর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ড. চৌধুরী ইশরাক আহমদ সিদ্দিকী। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন,গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা.এস. এম. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু। এ সময় জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসবের আনন্দ সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে এবং মন্দিরসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পাশে থাকতে জেলা পরিষদের এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জেলা পরিষদের প্রশাসক ড. চৌধুরী ইশরাক আহমদ সিদ্দিকী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় এবার পূজার উপহারসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। জেলা পরিষদের ইতিহাসে এ ধরনের উদ্যোগ এবারই প্রথম নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলন বোর্ডবাজারে শান্তি, অন্যত্র ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও টিয়ারশেল

মোঃ জাহাঙ্গীর আলম,স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৫ অপরাহ্ণ
গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলন বোর্ডবাজারে শান্তি, অন্যত্র ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও টিয়ারশেল

গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মিশ্র পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শিল্পাঞ্চলের কিছু এলাকায় অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে শ্রমিকদের কর্মসূচি পরিচালিত হলেও অন্যান্য বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে উত্তেজনা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং টিয়ারশেল নিক্ষেপের মতো ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে বোর্ডবাজার এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানায় কোনো প্রকার অপ্রীতিকর বা সংঘাতময় ঘটনা ছাড়াই শ্রমিকদের আন্দোলন সম্পন্ন হলেও অন্যান্য এলাকায় পরিস্থিতি বেশ থমথমে ছিল।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বোর্ডবাজার এলাকার রাবাব ফ্যাশন, ইউনিগিয়ার্স, ইউনিক ডিজাইন এবং রুপা গার্মেন্টসসহ সংলগ্ন কারখানাগুলোর শ্রমিকরা যখন আন্দোলন পরিচালনা করছিলেন, তখন মাঠ পর্যায়ে প্রত্যক্ষভাবে অবস্থান নেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। কারখানা সমূহের সার্বিক সম্পদ রক্ষা করা, কর্মরত শ্রমিকদের পূর্ণ নিরাপত্তা বিধান করা এবং যেকোনো ধরনের সহিংসতা বা অনিয়ম এড়িয়ে যেন শ্রমিকরা সুশৃঙ্খলভাবে নিজেদের দাবি তুলে ধরতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যেই গাছা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দীনের পরিচালনায় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে অবস্থান নিয়ে পাহারায় ছিলেন। ফলে এই অংশে অত্যন্ত সুসংহত ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কর্মসূচি শেষ হয়।
অন্যদিকে বোর্ডবাজারের দৃশ্যপট শান্ত থাকলেও গাজীপুরের অন্যান্য অংশে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার সংকট তৈরি হয়। সাইনবোর্ড, মালেকের বাড়ি, ভুসির মিল এবং বাইপাস চৌরাস্তা এলাকা সংলগ্ন মহাসড়কে শ্রমিকদের আন্দোলনকে ঘিরে দফায় দফায় উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেখানে আন্দোলনকারীদের সাথে উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে উদ্ভূত বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ আনতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয় বলে খবর পাওয়া গেছে।
শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হঠাৎ এমন সংঘাতময় ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় সাধারণ পথচারী, কারখানার শ্রমিক ও কর্তৃপক্ষ উভয়ের মধ্যেই মারাত্মক উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। এ ধরনের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিল্পকারখানাগুলোর স্বাভাবিক উৎপাদন প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা, সাধারণ শ্রমিকদের জীবনের নিরাপত্তা দেওয়া এবং আঞ্চলিক সড়কে যানবাহন চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক রাখা বর্তমানে এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, শ্রমিকদের যেকোনো যৌক্তিক ও ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলন যেন কোনোভাবেই কোনো গোষ্ঠী বা পক্ষের স্বার্থে সহিংসতা, কারখানা ভাঙচুর বা রক্তাক্ত সংঘর্ষে রূপ না নেয়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। এই সার্বিক সংকট দূরীকরণে শ্রমিক প্রতিনিধি, কারখানা মালিক কর্তৃপক্ষ, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সমন্বিত ও দায়িত্বশীল ভূমিকা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
তবে গাজীপুরের এসব এলাকায় শ্রমিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যকার সংঘটিত ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মূল বা প্রকৃত কারণ কী ছিল, ঘটনায় কোনো আহতের ঘটনা ঘটেছে কি না কিংবা সর্বমোট কত রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়েছে—এসব বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো কোনো দাপ্তরিক বা আনুষ্ঠানিক মন্তব্য জানা যায়নি।
শিল্পনগরী গাজীপুরের সার্বিক স্থীতিশীলতা রক্ষা এবং জাতীয় অর্থনীতিতে পোশাকখাতের অবদান ধরে রাখতে সকল পক্ষকে শান্ত থেকে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।
আরও পড়ুন
দৈনিক নববাণীর অনলাইন পোর্টালে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, জাতীয় অর্থনীতি এবং গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের চলমান পরিস্থিতি সম্পর্কিত সর্বশেষ ও বস্তুনিষ্ঠ সব খবর মুহূর্তেই পড়তে যুক্ত থাকুন আমাদের সাথে।

কসবায় বসতবাড়িতে অভিযান, ২৯ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১

মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম আমিন উপজেলা প্রতিনিধি আখাউড়া প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ণ
কসবায় বসতবাড়িতে অভিযান, ২৯ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় বসতবাড়িতে অভিযান চালিয়ে ২৯ কেজি গাঁজাসহ জামাল মিয়া (৪৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (৪ নভেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার ১০ নম্বর বায়েক ইউনিয়নের ছোট বায়েক মধ্যপাড়া এলাকায় তাঁর নিজ বসতবাড়িতে অভিযান চালিয়ে এসব গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কসবা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুর রহিম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় জামাল মিয়ার কাছ থেকে ২৯ কেজি গাঁজা উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।

কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ জানান, গ্রেপ্তার জামাল মিয়া ছোট বায়েক মধ্যপাড়া এলাকার মৃত তাজুল ইসলামের ছেলে। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ডিসি অফিসে একযোগে ৫৬ জনের বদলি: বহাল সিন্ডি/কেট চক্র

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৩ অপরাহ্ণ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ডিসি অফিসে একযোগে ৫৬ জনের বদলি: বহাল সিন্ডি/কেট চক্র

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একযোগে ৫৬ জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীকে বদলি করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রশাসনের অভ্যন্তরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এই বদলিকে কেন্দ্র করে সাধারণ কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কাউছার আহমেদ ও জেলা নাজির আরিফুর রহমানের কথিত প্রভাববলয় বা ‘কাউছার-আরিফ সিন্ডিকেটের’ বাইরে থাকা কর্মচারীদেরই মূলত বদলির মুখে পড়তে হয়েছে। অন্যদিকে, তাঁদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজন কর্মচারী আগের কর্মস্থলেই বহাল রয়েছেন।

সোমবার (২ নভেম্বর) জেলা প্রশাসনের নেজারত শাখা থেকে জারি করা আদেশে দপ্তরি, অফিস সহায়ক ও প্রসেস সার্ভার পদে কর্মরত মোট ৫৬ জনকে একযোগে বদলি করা হয়। বদলির তালিকায় রয়েছেন ৬ জন দপ্তরি, ২৬ জন অফিস সহায়ক এবং ২৪ জন প্রসেস সার্ভার। আগামী ৮ নভেম্বর পূর্বাহ্ণে বদলিকৃত কর্মস্থলে তাঁদের যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একই দিনে এত বিপুলসংখ্যক কর্মচারীর বদলির ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে কী কারণে এবং কোন প্রশাসনিক বিবেচনায় এই গণবদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। বদলির ক্ষেত্রে সবার জন্য সমান নীতি অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও দেখা দিয়েছে বদলি হওয়া কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ।

কর্মচারীদের একাংশের অভিযোগ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা কাউছার আহমেদ ও জেলা নাজির আরিফুর রহমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এমন কয়েকজন কর্মচারীকে কৌশলে আগের কর্মস্থলে বহাল রাখা হয়েছে। এমনকি তাঁদের অন্যত্র বদলি দেখানো হলেও বাস্তবে আগের জায়গায় কাজ করার সুযোগ রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে যাঁদের নাম উঠে এসেছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন দপ্তরি হেলিম মৃধা, সুশান্ত রায়। অফিস সহায়ক পুলক চন্দ্র রায়, সুহেল আহমেদ ও সেন্টু লাল দাস এবং প্রসেস সার্ভার ইসমাইল মিয়া, মো. নজরুল ইসলাম, নোয়াব মিয়া, মানিক মিয়া, রফিকুল ইসলাম, রতন মিয়া, হাবিবুর রহমান ও আলী আক্কাসসহ আরও অনেকেই।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের একজন কর্মচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের অফিস চলে এখন কাউছার-আরিফের কথায়। তাঁদের কথায় স্যাররা রাতকে দিন, দিনকে রাত করেন। সাধারণ কর্মচারীদের দুঃখ-দুর্দশা বোঝার যেন কেউ নেই। কারও সঙ্গে সু-সম্পর্ক থাকলে তাঁর জন্য এক নিয়ম, আর সাধারণ কর্মচারীদের জন্য আরেক নিয়ম। এই পরিস্থিতিতে আমরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।
ওই কর্মচারীর অভিযোগ, বদলি নিয়ে এক ধরনের প্রভাব বিস্তার ও বাণিজ্যের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

কর্মচারীদের একাংশের প্রশ্ন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা কাউছার আহমেদ প্রায় ২১ বছর ধরে একই জেলায় এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন। অন্যদিকে জেলা নাজির আরিফুর রহমান আরিফের কর্মকালও প্রায় ৭-৮ বছর বলে জানা গেছে।

দীর্ঘদিন একই কার্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকার কারণে তাঁদের প্রভাববলয় তৈরি হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন কর্মচারীদের কেউ কেউ। তাঁদের দাবি, প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

প্রশাসনিক কর্মকর্তা কাউছার আহমেদের বিরুদ্ধে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনে একাধিক অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্র। এ ছাড়া বিভিন্ন গণমাধ্যমেও তাঁকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে জেলা নাজির আরিফুর রহমানের বিরুদ্ধেও দীর্ঘদিন যাবৎ একই কার্যালয়ে কর্মরত থাকা এবং প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলেছেন কর্মচারীদের একটি বড় অংশ।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং প্রশাসনিক নিয়মনীতি অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন বদলির একাংশ। একই দিনে ৫৬ জন কর্মচারীর বদলি এবং কিছু কর্মচারীকে ঘিরে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ বলেন, বদলি একটি সাধারণ নিয়ম এবং এই নিয়মেই হয়েছে। দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠা ব্যক্তিদের বিষয়ে তিনি বলেন ধাপে ধাপে এদেরকেও বদলি করা হবে।

×