প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলন বোর্ডবাজারে শান্তি, অন্যত্র ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও টিয়ারশেল

মোঃ জাহাঙ্গীর আলম,স্টাফ রিপোর্টার

গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মিশ্র পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শিল্পাঞ্চলের কিছু এলাকায় অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে শ্রমিকদের কর্মসূচি পরিচালিত হলেও অন্যান্য বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে উত্তেজনা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং টিয়ারশেল নিক্ষেপের মতো ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে বোর্ডবাজার এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানায় কোনো প্রকার অপ্রীতিকর বা সংঘাতময় ঘটনা ছাড়াই শ্রমিকদের আন্দোলন সম্পন্ন হলেও অন্যান্য এলাকায় পরিস্থিতি বেশ থমথমে ছিল।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বোর্ডবাজার এলাকার রাবাব ফ্যাশন, ইউনিগিয়ার্স, ইউনিক ডিজাইন এবং রুপা গার্মেন্টসসহ সংলগ্ন কারখানাগুলোর শ্রমিকরা যখন আন্দোলন পরিচালনা করছিলেন, তখন মাঠ পর্যায়ে প্রত্যক্ষভাবে অবস্থান নেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। কারখানা সমূহের সার্বিক সম্পদ রক্ষা করা, কর্মরত শ্রমিকদের পূর্ণ নিরাপত্তা বিধান করা এবং যেকোনো ধরনের সহিংসতা বা অনিয়ম এড়িয়ে যেন শ্রমিকরা সুশৃঙ্খলভাবে নিজেদের দাবি তুলে ধরতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যেই গাছা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দীনের পরিচালনায় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে অবস্থান নিয়ে পাহারায় ছিলেন। ফলে এই অংশে অত্যন্ত সুসংহত ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কর্মসূচি শেষ হয়।
অন্যদিকে বোর্ডবাজারের দৃশ্যপট শান্ত থাকলেও গাজীপুরের অন্যান্য অংশে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার সংকট তৈরি হয়। সাইনবোর্ড, মালেকের বাড়ি, ভুসির মিল এবং বাইপাস চৌরাস্তা এলাকা সংলগ্ন মহাসড়কে শ্রমিকদের আন্দোলনকে ঘিরে দফায় দফায় উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেখানে আন্দোলনকারীদের সাথে উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে উদ্ভূত বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ আনতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয় বলে খবর পাওয়া গেছে।
শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হঠাৎ এমন সংঘাতময় ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় সাধারণ পথচারী, কারখানার শ্রমিক ও কর্তৃপক্ষ উভয়ের মধ্যেই মারাত্মক উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। এ ধরনের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিল্পকারখানাগুলোর স্বাভাবিক উৎপাদন প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা, সাধারণ শ্রমিকদের জীবনের নিরাপত্তা দেওয়া এবং আঞ্চলিক সড়কে যানবাহন চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক রাখা বর্তমানে এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, শ্রমিকদের যেকোনো যৌক্তিক ও ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলন যেন কোনোভাবেই কোনো গোষ্ঠী বা পক্ষের স্বার্থে সহিংসতা, কারখানা ভাঙচুর বা রক্তাক্ত সংঘর্ষে রূপ না নেয়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। এই সার্বিক সংকট দূরীকরণে শ্রমিক প্রতিনিধি, কারখানা মালিক কর্তৃপক্ষ, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সমন্বিত ও দায়িত্বশীল ভূমিকা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
তবে গাজীপুরের এসব এলাকায় শ্রমিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যকার সংঘটিত ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মূল বা প্রকৃত কারণ কী ছিল, ঘটনায় কোনো আহতের ঘটনা ঘটেছে কি না কিংবা সর্বমোট কত রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়েছে—এসব বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো কোনো দাপ্তরিক বা আনুষ্ঠানিক মন্তব্য জানা যায়নি।
শিল্পনগরী গাজীপুরের সার্বিক স্থীতিশীলতা রক্ষা এবং জাতীয় অর্থনীতিতে পোশাকখাতের অবদান ধরে রাখতে সকল পক্ষকে শান্ত থেকে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।
আরও পড়ুন
দৈনিক নববাণীর অনলাইন পোর্টালে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, জাতীয় অর্থনীতি এবং গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের চলমান পরিস্থিতি সম্পর্কিত সর্বশেষ ও বস্তুনিষ্ঠ সব খবর মুহূর্তেই পড়তে যুক্ত থাকুন আমাদের সাথে।

Published by the Editor from 24 Shantibagh, Dhaka-1217; Commercial Office: Roni House, 153 C/A, Motijheel, Dhaka-1000. Mobile: 09697266156 /Watsapp 01349-657644.  E-mail: news.dailynababani@gmail.com

প্রিন্ট করুন