আলীকদমে আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস পালিত: রচনা ও বিতর্কে মুখরিত দামতুয়া হলরুম
পার্বত্য জেলা বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশ ও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস-২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। সমাজের প্রতিটি স্তরে কন্যাশিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, তাদের প্রতি বৈষম্য দূরীকরণ এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই বিশেষ দিনটি উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। বুধবার (১৪ অক্টোবর) উপজেলার সুপরিচিত দামতুয়া হলরুমে আয়োজিত এই মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতায় স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে তাদের সুপ্ত প্রতিভা ও অদম্য স্পৃহার প্রমাণ দেয়।
এবারের আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল— “বাল্যবিবাহ বন্ধ করুন, মেয়েশিশুর অধিকার নিশ্চিত করুন”। এই অত্যন্ত সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখেই দামতুয়া হলরুমে আয়োজিত বিতর্ক ও রচনা প্রতিযোগিতার বিষয়বস্তু নির্বাচন করা হয়। পাহাড়ি এই দুর্গম জনপদের সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি স্থানীয় সুধীমহল ও অভিভাবকদের মাঝে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সাবলীল উপস্থাপনা ও যুক্তিতর্কের লড়াই উপস্থিত সকলকে মুগ্ধ করে।
মেধাবিকাশের এই অনন্য আয়োজনে আলীকদম উপজেলার স্বনামধন্য বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল আলীকদম কিন্ডারগার্টেন স্কুল, আলীকদম আইডিয়াল স্কুল, মংচিং হেডম্যান পাড়া সরকারি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং রেপার পাড়া প্রি-ক্যাডেট স্কুল। এই বিদ্যালয়গুলোর কোমলমতি শিশু ও কিশোর-কিশোরীরা অত্যন্ত আগ্রহ ও উদ্দীপনার সাথে রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতায় নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রাখে। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিতার্কিকরা তাদের ক্ষুরধার যুক্তির মাধ্যমে কন্যাশিশুদের বর্তমান সামাজিক অবস্থান এবং তাদের এগিয়ে যাওয়ার পথে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো অত্যন্ত সুনিপুণভাবে তুলে ধরে।
আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার মূল লক্ষ্য ছিল নিছক কোনো পুরস্কার বিতরণ নয়, বরং সমাজের গভীরে প্রোথিত থাকা বৈষম্যের শেকড় উৎপাটন করা। শিক্ষার্থীদের লেখা রচনা এবং বিতর্কের বিষয়বস্তুর মাধ্যমে মূলত কন্যাশিশুর ন্যায্য অধিকার আদায়, নারী-পুরুষের মধ্যে সামাজিক সমতা বিধান, সমাজের অন্যতম অভিশাপ বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং নারী শিক্ষার অপরিসীম গুরুত্বের বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়। বক্তারা তাদের বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, আজকের কন্যাশিশুই আগামী দিনের সুস্থ সমাজ গঠনের প্রধান কারিগর। তাই তাদের উপযুক্ত শিক্ষায় শিক্ষিত করার পাশাপাশি বাল্যবিবাহের মতো ভয়াবহ ব্যাধি থেকে মুক্ত রাখতে হবে।
আলীকদমের মতো একটি পাহাড়ি ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে এমন মেধাভিত্তিক ও সচেতনতামূলক আয়োজনের গুরুত্ব অপরিসীম। রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার মতো সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শিশুদের মনে যে অধিকারবোধ ও সচেতনতার বীজ বপন করা হলো, তা ভবিষ্যতে একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ সমাজ বিনির্মাণে বিশাল ভূমিকা পালন করবে। বাল্যবিবাহ রোধ এবং কন্যাশিশুর সার্বিক অধিকার রক্ষায় এমন উদ্যোগ আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ।

