সাটুরিয়ার কৌশলী রিপন প্রায় বিশ লক্ষ টাকা মেরে উদাও ! ছেলের খোঁজ জানেন না পিতা-মাতা কেঊ!

সাটুরিয়া প্রতিনিধিঃ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০৬ অপরাহ্ণ
সাটুরিয়ার কৌশলী রিপন প্রায় বিশ লক্ষ টাকা মেরে উদাও ! ছেলের খোঁজ জানেন না পিতা-মাতা কেঊ!
৫৫

বিদেশ যাওয়ার কথা বলে প্রায় ত্রিশ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে রিপন ও তার মা সোনিয়া বেগমের বিরুদ্ধে। গ্রামের সহজ সরল মানুষদেরকে নানান প্রস্তাবে প্রলুব্ধ করে মা-ছেলে মিলে এই বিপুল অংকের টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে ভূক্তভোগিদের অভিযোগ। জানাযায়, প্রতারক রিপন (২৬) মিয়া ও তা মা সোনিয়া বেগম (সম্পী) মানিকগঞ্জ জেলাধীন সাটুরিয়া উপজেলার চাচিতারা গ্রামের বাসিন্দা। রিপনের বাবার বাড়ী টাংগাইলের নাগরপুর উপজেলার জালশুকা গ্রামে। তার বাবার নাম আব্দুল কালাম।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রিপন মিয়া বছর সাতেক আগে চাচিতারা গ্রামের উত্তরপাড়ার বাদশা মিয়ার (পীড়) মেয়েকে বিয়ে করেন এবং সেই বাড়ীতেই ঘরজামাই হিসাবে বসবাস করে আসছিলেন। বিয়ের আগে বিদেশে যাওয়ার ধূয়া তুলে চাচিতারা, পুনাইল, চৌবরীয়া ও ধামরাই এলাকার প্রায় অধঃডজন মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নেয়। পাওয়নাদারের তাগিদ এড়াতে বর্তমানে পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।

প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের তথ্য মতে, রিপন একজন ভাওতাবাজ ছেলে। তার বাবা কালামও একই প্রকৃতির লোক। বাবার উদাসীনতা ও কর্তব্যের ব্যর্থতার কারণে সে ও তার মা নানার বাড়ীতে থাকতেন। যার কারণে সে চাতুরতাকেই জীবনের সঙ্গী করে নেন। তাদের অভিযোগ- রিপন ছলচাতুরী করে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে বিপুল অংকের টাকা অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। গত কয়েক বছর ধরেই খরবটি পরো এলাকা জুড়ে চড়াও। তবে কার কার কাছ থেকে টাকা নিয়েছে এই সম্পর্কে তাদের সুস্পষ্ট ধারনা নাই।

প্রাপ্ত তথ্য অনুসন্ধানে জানাগেছে রিপন ও তার মা সোনিয়া বেগম সম্পীর টাকা ঋণের অজানা কাহিনী। মা ছেলে মিলে যুক্তিকরেই এমনটি ঘটিয়েছেন বলে ভুক্তভোগিদের অভিমত। আবার অনেকেরই ধারনা, তাদের সাথে এহেন কাজে শক্তিশালী কোন প্রতারকচক্র যুক্ত থাকতে পারে।

প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করে জানাগেছে তারা- চাচিতারা গ্রামের আন্না বেগম, স্বামী-রিপন মিয়ার কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকা, ধামরাই গার্মেন্টে চাকুরীরত চায়না বেগম স্বামী-চেনু মিয়ার কাছ থেকে ১ লক্ষ টাকা, সরলা স্বামী বোহান উদ্দিনের কাছ থেকে ১ লক্ষ টাকা, অঞ্জলী রানী স্বামী-সুজন মিয়ার কাজ থেকে ১ লক্ষ টাকা, বানী রানী স্বামী রবি মিস্ত্রীর কাজ থেকে ৫০ হাজার, পুনাইল গ্রামের ঝিলি বেগম স্বামী গদু মিয়ার কাছ থেকে ১ লক্ষ টাকা, সুফিয়া বেগম স্বামী বোরহান উদ্দিনের কাজ থেকে ৫০ হাজার টাকা, বাবুল হোসেন পিতা-জিন্নত আলীর কাছ থেকে ৩ লক্ষ টাকা, কামরুল ইসলাম পিতা দৌলতের কাজ থেকে ৫০ হাজারসহ অসংখ্য মানুষের কাছ থেকে সে ও তার মা টাকা নিয়ে আত্মসাতের চেষ্টা করছেন।।

এ ব্যাপারে ভুক্তভোগি আন্না বেগম জানান, আমার ছেলে নাই। দুই মেয়ে। স্বামী অসুস্থ্য, তেমন কাজ করতে পারে না। এর আগে আমি একটা গার্মেন্টে চাকুরী করতাম। বছর ছয়েক আগে চাকুরী বাদ দিয়ে নিজ বাড়ী চাচিতারা চলে আসি। গামের্ন্টে চাকুরীকালীন সময়ে অনেক কষ্টে-সিষ্টে দুই লক্ষ টাকা জমিয়ে ছিলাম। বছর পাঁচেক আগে আমার সরলতার সুযোগ নিয়ে রিপনকে সাথে নিয়ে এসে, তার মা সোনিয়া বেগম বলে, বৌ, আমার ছেলে বিদেশে যাবে। এই মুর্হুতে আমার ২লক্ষ টাকা দরকার। আমি গরীব মানুষ। বছরে ২৪মন ধান দেওয়ার শর্তে আমি তাকে ২ লক্ষ টাকা দেই। তারপর থেকে অব্দ্যাবদি ধান তো দূরের কথা সে আমার আসল টাকাই দিচ্ছে না।

তিনি আরো জানান, বিগত তিন বছর ধরে টাকার তাগাদা দিচ্ছিলাম। এখন শুনি- রিপন ও তার মা আরো অনেকের কাছ থেকে একই কথা বলে টাকা নিয়েছে। রিপন, টাকা আত্মসাতের অভিপ্রায়ে বাড়ী হতে পালিয়েছে। আমি গরীব মানুষ। দুই মেয়ে নিয়ে এখন অনাহারে- অধঃআহারে জীবন যাপন করছি।

ধামরাইয়ে গার্মেন্টে চাকুরী করেন চায়না আক্তার। তিনি জানান, আমার মায়ের বাড়ী চাচিতার গ্রামে। মাকে দেখতে মাঝে মধ্যেই আমি চাচিতারা যাই। বছর দুয়েক আগে কোন একদিন আমি চাচিতারা গেলে রিপনের মা এসে বলে, বোন আমার ছেলের রুমানিয়ায় ভিসা হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে ফ্লাইট। আমাকে এক লক্ষ টাকা দিতে হবে। প্রতিবেশী মনে করে আমি সরল বিশ্বাসে তাকে ১লক্ষ টাকা দেই। কিন্তু অদ্যাবদি আমার টাকা ফিরত দিচ্ছে না। গতকয়েক দিন আগে টাকার তাগাদায় আমি চাচিতারা গেলে শুনি রিপন পালিয়েছে। এখন তার মায়ে কাছে টাকার দাবি করলে সে বলে- টাকা নিয়েছে আমার ছেলে, আমি টাকা কোথা থেকে দিব- ইত্যাদি ইত্যাদি।।

চাচিতারা গ্রামের সরলা বেগম বলেন, রিপন বিদেশে যাওয়ার ভিসা দেখিয়ে আমাদের কাছ থেকে ১ লক্ষ টাকা নিয়েছে। শর্ত ছিল সে আমাকে বছরে ২৪ মণ ধান দেবে। এই ব্যাপারে একটি ষ্ট্যাম্পও করা হয়েছিল। কিন্তু তার ভাব চক্কার খারাপ মনে হওয়ায় টাকা ফিরতের তাগাদা দিলে- সে, এই দিচ্ছি, দিব বলে সময় পার করছিল। এখন শুনি সে বাড়ী হতে পালিয়েছে। এই অবস্থায় আমি কি করব বুঝতে পারছি না।

চাচিতারা গ্রামের বাবুল মিয়া জানান, রিপন ও তার মা সোনিয়া চিহিৃত প্রতারক। সে বিদেশ যাওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে প্রায় ৩ লক্ষ টাকা নিয়েছে, তাও ৫ বছর আগে। প্রতি লাখে ২৬মন ধান দেওয়ার কথা বলে তার পরিবারের সকলের উপস্থিতিতে আমি টাকা দেই। এখন ধান তো দূরের কথা আমাকে আসলই দিচ্ছে না। শুনেছি, টাকার মারার ধান্দায় সে গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছে। আমি এই ব্যাপারে প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।

রিপন ও তার মা সোনিয়ার বিরুদ্ধে একই অভিযোগ, সুফিয়া বেগম, অঞ্জলী রানী, বানী রানীসহ অধঃ ডজন মানুষের। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে বিপুল পরিমান টাকা নিয়ে রিপন পলাতক। লোকমুখে কথিত যে, মা-ছেলে মিলে প্রায় বিশ লক্ষটাকা আত্মসাতের চেষ্টা করছে।

এই ব্যাপারে রিপনের মা সোনিয়া বেগম সম্পী জানান, আমি অভিযোগ অস্বীকার করবো না। তবে টাকার পরিমান এতো নয়। স্বামী অসুস্থ্যতা ও ছেলের লেখা-পড়ার খরচবাদ আমি বেশ কিছু টাকা ঋণ নিয়ে ছিলাম। ছেলে, লেখাপড়া শেষে গ্রামেরই উত্তরপাড়া বাদশা পীড়ের মেয়েকে বিয়ে করে আমাদের ছেড়ে চলে যায় এবং শ্বশুড় বাড়ীতে আশ্রয় নেয়। বিগত ৪ বছর যাবৎ আমাদের সাথে তার কোন যোগাযোগ নাই।

তিনি আরো জানান, আমরা গরীব মানুষ। অনেক কষ্টে-সিষ্টে চলি। প্রথম দিকে ঋণের ২ লক্ষ টাকা বিদেশ (রোমানিয়া) যাওয়ার জন্য প্রতিবেশী মহর ভাইয়ের কাছে জমা দিয়ে ছিলাম। এখন মহর বলছে- টাকা ছেলে উঠিয়ে নিয়ে গেছে। ছেলের সাথেও আমরা যোগাযোগ করতে পারছি না।

তিনি আরো জানান, ছেলে শ্বশুড়বাড়ীতে আশ্রয় নেওয়ার পর বিগত চার বছরে কার কার কাছ থেকে টাকা ঋণ করেছে তা আমার জানা নাই। একাই গ্রামের হলেও ছেলের বৌয়ের সাথে আমাদের যোগাযোগ নাই। তবে লোকমুখে শুনেছি- রিপনের বৌ নাকি মাঝে মধ্যেই রিপনের সাথে যোগাযোগ করে। তিনি অক্ষেপ করে বলেন, আমি একদিকে ছেলে হারা অণ্য দিকে ঋণের বুঝা আর বয়তে পারছি না! গ্রামের দশজন আছেন- যেটা ভাল মনে করেন সেটা মানা ছাড়া আমার উপায় কি !

ঋণের ব্যাপারে পলাতক রিপন হোসেনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার হাতের মোবাইল ০১৭৪০৭৯৫০১২ ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।