হাসপাতালের সামনেই থেমে গেল আরিফের জীবন, রাস্তায় বাঁধা গরুর দায় কার?

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১২ অপরাহ্ণ
হাসপাতালের সামনেই থেমে গেল আরিফের জীবন, রাস্তায় বাঁধা গরুর দায় কার?
৯১

গতকাল বিকাল আনুমানিক ৪টা। মৌলভীবাজারের শমসেরনগর হাসপাতালের সামনের সড়ক। বন্ধুকে নিয়ে মোটরসাইকেলে যাচ্ছিলেন বি.এ.এফ শাহীন কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী আরিফ। গন্তব্যে আর পৌঁছানো হলো না তার।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সড়কের পাশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বেঁধে রাখা একটি গরু হঠাৎ বেপরোয়া হয়ে মূল সড়কে উঠে আসে। আকস্মিক এই ধাক্কা সামলাতে না পেরে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ছিটকে পড়েন দুজন। ঘটনাস্থলেই মারা যান আরিফ। যে হাসপাতালে মানুষ প্রাণ বাঁচাতে আসে, তার সামনেই ঝরে গেল একটি তরতাজা প্রাণ।
এটিকে নিছক দুর্ঘটনা বলে পার পাওয়ার সুযোগ নেই বলে মনে করছেন আইনজীবী ও সাধারণ মানুষ। দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৩০৪ক ধারা অনুযায়ী, কারও অবহেলার কারণে মানুষের মৃত্যু হলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। একই আইনের ২৮৯ ধারায় নিজের দখলে থাকা পশুকে এমনভাবে রাখাও অপরাধ, যাতে মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা থাকে। ব্যস্ত সড়কের পাশে গরু বেঁধে রাখা সেই আশঙ্কা তৈরি করে কি না, প্রশ্নটা এখন প্রশাসন ও আইনের সামনে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজারের বিভিন্ন প্রধান সড়ক ও সংযোগ সড়কে গবাদিপশু বেঁধে রাখা বা ছেড়ে দেওয়ার চর্চা নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে এমন চললেও প্রশাসন বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি চোখে পড়ে না। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করা মানুষ রোজ এই ঝুঁকি মাথায় নিয়েই পথ চলেন।
আরিফের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমেছে। কিন্তু শোক দিয়ে সড়ক নিরাপদ হয় না। আজ আরিফ, কাল আপনার বা আমার স্বজন একই অবহেলার শিকার হলে দায় নেবে কে?
জনস্বার্থে এখন দাবি একটাই: আরিফের মৃত্যুর জন্য দায়ী গরুর মালিককে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে মৌলভীবাজারের সব সড়ক থেকে এই মরণফাঁদ উচ্ছেদে প্রশাসনকে অবিলম্বে কঠোর অভিযানে নামতে হবে।
আরিফ আর ফিরবেন না। কিন্তু পরের আরিফকে বাঁচানোর সময় এখনো আছে।