খাগড়াছড়িতে অবৈধভাবে সার মজুদের দায়ে ২১ টন সার জব্দ: ডিলারের ম্যানেজারকে কারাদণ্ড

অজয় সেন ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:০৬ অপরাহ্ণ
খাগড়াছড়িতে অবৈধভাবে সার মজুদের দায়ে ২১ টন সার জব্দ: ডিলারের ম্যানেজারকে কারাদণ্ড
৭৯

খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলায় কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সারের কৃত্রিম সংকট তৈরির এক অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করেছে স্থানীয় প্রশাসন। সরকারিভাবে নির্ধারিত বরাদ্দের চেয়ে অতিরিক্ত সার অবৈধভাবে মজুদ করা এবং নির্ধারিত গুদামের বাইরে তা সংরক্ষণ করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে এক বিশাল অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এই সাঁড়াশি অভিযানে অবৈধভাবে মজুদ করে রাখা মোট ২১ মেট্রিক টন সার জব্দ করেছে প্রশাসন। একই সঙ্গে সার ব্যবস্থাপনায় চরম অনিয়মের দায়ে সংশ্লিষ্ট সার ডিলার প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারকে ৭ দিনের কারাদণ্ড এবং ১৫ হাজার টাকার আর্থিক দণ্ড প্রদান করা হয়েছে। কৃষকদের ন্যায্য অধিকার রক্ষায় প্রশাসনের এই ত্বরিত পদক্ষেপে স্থানীয় জনমনে ব্যাপক স্বস্তি ফিরে এসেছে।

গত বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে দীঘিনালা উপজেলার ২ নম্বর বোয়ালখালী ইউনিয়ন এলাকায় এই দুর্নীতিবিরোধী ঝটিকা অভিযানটি পরিচালিত হয়। স্থানীয় প্রশাসন গোপন গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে আগে থেকেই জানতে পেরেছিল যে, ওই এলাকার বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের (বিসিআইসি) অনুমোদিত সার ডিলার প্রতিষ্ঠান ‘এসএস ট্রেডার্স’-এ সারের চরম অনিয়ম চলছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে দীঘিনালা উপজেলার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফারিয়া সুলতানার সরাসরি নেতৃত্বে সেখানে আকস্মিক হানা দেওয়া হয়। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে সংশ্লিষ্টরা হতচকিত হয়ে যান এবং তাদের মজুদের প্রকৃত হিসাব ও বৈধ কাগজপত্র দেখাতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হন।

অভিযান চলাকালে এসএস ট্রেডার্সের গুদাম ও এর আশেপাশের এলাকা নিবিড়ভাবে তল্লাশি করা হয়। এ সময় দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি সরকারের বেঁধে দেওয়া নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বরাদ্দের চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণ সার নিজেদের কব্জায় রেখেছে। শুধু তাই নয়, সারগুলো সরকারিভাবে অনুমোদিত ও নির্ধারিত গুদামের বাইরে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে অন্যত্র সংরক্ষণ করা হচ্ছিল, যা সারের কালোবাজারির সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসন সেখান থেকে ২১ মেট্রিক টন সার জব্দ করে নিজেদের জিম্মায় নেয়। এরপর সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬ (যাহা ২০১৮ সালে সংশোধিত)-এর সংশ্লিষ্ট ধারা প্রয়োগ করে প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজারকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

সাজাপ্রাপ্ত ওই ম্যানেজারের নাম সাজ্জাদ হোসেন (২৭)। তিনি দীঘিনালা উপজেলার পশ্চিম থানা পাড়া এলাকার বাসিন্দা কামাল উদ্দিনের ছেলে। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে সারের অবৈধ মজুদের দায়ে তাৎক্ষণিকভাবে ৭ দিনের কারাদণ্ড এবং নগদ ১৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করে। প্রশাসনের এই কঠোর আইনি ব্যবস্থার ফলে এলাকার অন্যান্য অসাধু ব্যবসায়ীদের মধ্যে একটি স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে যে, কৃষকের সার নিয়ে কারসাজি করলে কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।

সারের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও কৃষকদের কাছে তা সঠিক মূল্যে পৌঁছে দেওয়া দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি। দীঘিনালায় প্রশাসনের এই সফল অভিযান প্রমাণ করে যে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় সর্বদা তৎপর। প্রশাসন দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছে, সরকারি বরাদ্দের সার যাতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে নির্ধারিত নিয়মে সংরক্ষণ করা হয় এবং প্রকৃত কৃষকদের মধ্যে সুষমভাবে বিতরণ করা হয়, সে বিষয়ে তাদের কঠোর নজরদারি আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য রুখতে প্রশাসনের এ ধরনের সময়োপযোগী অভিযান ও ধারাবাহিক তদারকি কার্যক্রমকে স্থানীয় জনসাধারণ অত্যন্ত সাধুবাদ জানিয়েছেন।