দাঁড়িয়ে থাকা লরিতে প্রাইভেটকারের ধাক্কা, ৮ প্রকৌশল শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃ/ত্যু

সুজন চক্রবর্তী, ভারত প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪৮ অপরাহ্ণ
দাঁড়িয়ে থাকা লরিতে প্রাইভেটকারের ধাক্কা, ৮ প্রকৌশল শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃ/ত্যু
১০৭

ভারতের দক্ষিণঞ্চলীয় রাজ্য কেরালায় এক বিভৎস ও হৃদয়বিদারক পথ দুর্ঘটনায় অন্তত ৮ জন তরুণ প্রকৌশল শিক্ষার্থীর করুণ মৃত্যু হয়েছে। জাতীয় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বিশালাকার লরির পেছনে দ্রুতগামী একটি প্রাইভেটকার সজোরে ধাক্কা দিলে এই মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। নিহত সকল শিক্ষার্থীই প্রতিবেশী তামিলনাড়ু রাজ্যের বাসিন্দা বলে পুলিশি সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে কেরালার ত্রিশূর জেলায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি সংঘটিত হয়। পরবর্তীতে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে স্থানীয় পুলিশ বিভাগ ঘটনার ভয়াবহতা ও বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করে।

কেরালা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মর্মান্তিক এই সড়ক দুর্ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার রাত আনুমানিক ১১টা ৪০ মিনিটে। ত্রিশূর জেলার কাইপামঙ্গলম এলাকার অন্তর্গত পানাম্বিকুন্নু সেন্টারে জাতীয় সড়কের ওপর এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। পথিমধ্যে জাতীয় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মালবাহী লরির পেছনে শিক্ষার্থীদের বহনকারী দ্রুতগতির গাড়িটি সরাসরি সজোরে ধাক্কা মারে। প্রচণ্ড শক্তির এই সংঘর্ষের ফলে প্রাইভেটকারটি পুরোপুরি দুমড়ে-মুচড়ে একেবারে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। ঘটনার বিভৎসতা এতটাই বেশি ছিল যে কারটির ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীদের মৃতদেহ উদ্ধার করতে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ির ধাতব অংশ কেটে বের করতে হয়।

প্রাথমিক অনুসন্ধান ও স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, প্রাইভেটকারটি কেরাালার বিখ্যাত গুরুভায়ুর এলাকার দিক থেকে কোডুঙ্গাল্লরের দিকে দ্রুতগতিতে ধাবিত হচ্ছিল। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িতে থাকা যাত্রীরা সকলেই তামিলনাড়ুর দিন্দিগুল এলাকায় অবস্থিত পিএসএনএ কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির (PSNA College of Engineering and Technology) শিক্ষার্থী ছিলেন। বন্ধুদের সাথে ঘুরতে বের হয়ে মাঝপথে এই বিভৎস পরিণতির শিকার হতে হয় তরুণ শিক্ষার্থীদের।

ভয়াবহ এই প্রাণহানির খবর প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই কেরালা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং ঘটনার বিস্তারিত কারণ উদঘাটনে জোর তদন্ত শুরু করেছে। ওই শিক্ষার্থীরা মূলত কোথায় যাচ্ছিলেন এবং রাতের বেলা গাড়ির অতিরিক্ত গতি কিংবা চালকের অসাবধানতা দুর্ঘটনার কারণ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র পুলিশ আধিকারিকরা। নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ইতোমধ্যেই খবর দেওয়া হয়েছে এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

জাতীয় সড়ক ও মহাসড়কগুলোতে দাঁড়িয়ে থাকা অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন দূরপাল্লার চলাচলের ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত প্রাণঘাতী ফাঁদে পরিণত হচ্ছে। কেরালার এই মর্মান্তিক ঘটনায় একঝাঁক সম্ভাবনাময় তরুণ প্রকৌশল শিক্ষার্থীর অকালমৃত্যু গোটা শিক্ষাঙ্গন ও পরিবারগুলোতে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।