সাটুরিয়ার স্বাস্থ্যকেন্দ্রে উত্তেজনা

এক ব্যক্তিকে স্বামী দাবি করে দুই নারীর হট্টগোল

মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৪৩ অপরাহ্ণ
এক ব্যক্তিকে স্বামী দাবি করে দুই নারীর হট্টগোল
৯৫

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার দিঘলীয়া পরিবার পরিকল্পনা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে (চাচিতারা) এক ব্যক্তিকে স্বামী দাবি করে দুই নারীর মধ্যে টানাপোড়েন ও হট্টগোলের ঘটনা এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন চিকিৎসকবিহীন থাকা দিঘলীয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জুলাই বিপ্লবের পর তানিয়া আক্তার (২৬) নামে এক পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা নিয়োগ পান। তাঁর বাড়ি পাশের ধামরাই উপজেলার বন্যা গ্রামে। নিয়মিত যাতায়াতে অসুবিধার কারণে তিনি প্রথমে একা এবং পরে তাঁর স্বামী নাহিদুল ইসলাম টিপুকে (৫০) সঙ্গে নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দ্বিতীয় তলার আবাসিক কোয়ার্টারে বসবাস শুরু করেন।

 

রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে হঠাৎ এক নারী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসে নাহিদুল ইসলাম টিপুকে নিজের স্বামী দাবি করেন। এ সময় সেখানে বাকবিতণ্ডা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে ওই নারী নিজেকে টিপুর আগের স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন।

 

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাটুরিয়া উপজেলা সদর ইউনিয়নের মান্নান হোসেনের ছেলে নাহিদুল ইসলাম টিপুর আগের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই সংসার থাকা অবস্থাতেই তিনি দিঘলীয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা তানিয়া আক্তারকে বিয়ে করেন।

 

এ বিষয়ে তানিয়া আক্তার বলেন, “নাহিদুল ইসলাম টিপু আমার বৈধ স্বামী। আমরা একে অপরকে ভালোবেসে ইসলামী বিধান মোতাবেক বিয়ে করেছি এবং সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আবাসিক কোয়ার্টারে বসবাস করে আসছি।”

 

স্থানীয় ইউপি সদস্য সুজন মাহমুদ জানান, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে এক নারী নাহিদুল ইসলাম টিপুকে নিজের স্বামী দাবি করেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন।

 

ওই নারীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে সুজন মাহমুদ বলেন, “আমার ঘরে দুই সন্তান রয়েছে। তাদের রেখে নাহিদুল ইসলাম টিপু আমার সন্তানের বয়সী এক নারীকে বিয়ে করে এখানে আশ্রয় নিয়েছে। আপনাদের কাছে এর বিচার চাই।”

 

সুজন মাহমুদ আরও জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে তিনি উভয় পক্ষকে দ্বিতীয় তলার আবাসিক কক্ষ থেকে বের করে দেন। পরে কক্ষে তালা লাগিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাছে চাবি হস্তান্তর করেন।

 

এ বিষয়ে তানিয়ার মা সেলিনা বেগম (৫০) বলেন, “আমার ছেলে নেই, দুই মেয়েই সম্বল। বড় মেয়ের নাম সোনিয়া, ছোট মেয়ে তানিয়া। তানিয়া সাবালক হলেও তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি আমাকে দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। ২৬ বছরের একটি মেয়ে ৫০ বছরের বেশি বয়সী একজন বিবাহিত পুরুষকে বিয়ে করেছে—এতে আমি মর্মাহত। আমি মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত।”

 

স্থানীয়দের মতে, স্বাস্থ্যকেন্দ্র সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ও সেবার স্থান। সেখানে কর্মরত সেবাদানকারীদের ব্যক্তিগত বিরোধ যদি প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ও পরিবেশে প্রভাব ফেলে, তাহলে সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। এ কারণে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ ও যথাযথ সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।